মিরপুরে প্লট দখল ও চাঁদাবাজি, প্রতিকার চেয়ে সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি

Published: October 5, 2026, 6:58 pm

রাজধানীর মিরপুরের রূপনগর আবাসিক এলাকায় বেপরোয়া প্লট দখল, রাস্তা বন্ধ এবং ভবন নির্মাণে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী প্লট ও ফ্ল্যাটমালিকেরা অভিযোগ করেছেন যে, চাঁদাবাজদের হাত থেকে বাঁচতে এবং মারধরের প্রতিকার চেয়ে থানায় একাধিক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেও কোনো সুরাহা পাওয়া যাচ্ছে না।

আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্র্যাব) মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরে ‘সম্প্রসারিত রূপনগর আবাসিক এলাকা প্লট, বাড়ি ও ফ্ল্যাট মালিক কল্যাণ সমিতি’। সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সভাপতি এ কে এম শামসুজ্জামান লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের (জাগৃক) আওতাধীন রূপনগরের দুয়ারীপাড়া এলাকার এই আবাসন প্রকল্পের ‘ক’ ও ‘খ’ ব্লকে অন্তত ৫০টি প্লটের মালিক এখন চাঁদাবাজদের কাছে জিম্মি। গভীর রাতে ইট, বালু ও টিন দিয়ে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। এমনকি দেয়াল তুলে গেট তৈরি এবং ২০ ফুট চওড়া রাস্তায় লোহার অ্যাঙ্গেল ওয়েল্ডিং করে মানুষের চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রকল্পের খ-ব্লকের পূর্ব পাশে ৪০ ফুট চওড়া রাস্তাসহ প্রায় ৯০ কাঠা জায়গা দখল করে বস্তি ও গ্যারেজ গড়ে তোলা হয়েছে, যার আড়ালে মাদক ব্যবসা চলছে বলে অভিযোগ করা হয়। এসব বিষয়ে গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের মিরপুর কার্যালয় থেকে রূপনগর থানায় একাধিক জিডি ও লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও পুলিশ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, গত ১৮ জুলাই রূপনগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আসাদুলসহ দুজন পুলিশ সদস্যের উপস্থিতিতেই চাঁদাবাজেরা ড্যাফোডিল হোমস লিমিটেডের একটি নির্মাণাধীন প্রকল্পে গিয়ে শ্রমিকদের তাড়িয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়। সিসিটিভি ফুটেজেও এর প্রমাণ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান থানায় গিয়ে প্রতিকার না পেয়ে পরবর্তীতে সিএমএম আদালতে মামলা দায়ের করেন। এসব বিষয়ে বক্তব্য জানতে রূপনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নোমান হোসাইনকে দুপুর থেকে কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। সর্বশেষ রাত সোয়া ১০টায় ফোন করা হলে তিনি সংযোগটি কেটে দেন।

সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত থাকা ২২ সদস্যের আনসার ক্যাম্পটি প্রায় দুই মাস আগে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। ক্যাম্প প্রত্যাহারের রাতেই ক্যাম্পের জায়গাসহ দুটি প্লট দখল করে নেয় ওই চক্রটি। সভাপতি শামসুজ্জামান বলেন, ১৯৯৬ সাল থেকে বরাদ্দ পাওয়া এই项目中 অনেকে ভবন নির্মাণ করেছেন, আবার অনেকে সীমানা প্রাচীর দিয়ে রেখেছেন। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে একটি চক্র রাতের আঁধারে অন্যের জমিতে ঘর তুলে জবরদখল শুরু করেছে।

এই দখলদার চক্রে ৩৬ থেকে ৩৮ জন জড়িত বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়। চক্রের সদস্য হিসেবে সালাউদ্দিন শিপু মোল্লা, আমজাদ হোসেন মোল্লা, জাকির হোসেন ওরফে শান্ত, শিহাব উদ্দিন, জামাল উদ্দিন ওরফে লম্বা জামাল, আব্দুল হক, নজরুল ইসলাম (নজু), আক্তার হোসেন, হুমায়ুন কবির স্বপন, মামুন, আইজল, মোবারক হোসেন মেম্বার, গালিব হোসেন আরিফ, রাজু, সুমন, এরশাদ খোকন, জাহিদ হোসেন, মিজান, রکی, ফয়েজ, কামাল ওরফে সিএনজি কামাল, আজিজুল হক জামাল, দুলাল, সোহেল, সোহেল আনসারী, আবুল কালাম আনসারী, বাশার ও সফিকসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। সমিতির দাবি, অভিযুক্তদের কেউ কেউ আগে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে এসব অপকর্ম করছেন। কেউ দখলে বাধা দিলে উল্টো হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

প্লটমালিকদের নিরাপত্তা ও নিজেদের সম্পত্তির সুরক্ষায় অবিলম্বে এই চক্রের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে দেশের প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সমিতির নেতারা।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo