রয়্যাল অ্যালবার্ট হলে সংগীত প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন ব্রিটিশ বাংলাদেশি নাভহান

Published: November 5, 2026, 7:34 am

যুক্তরাজ্যের লন্ডনের বিশ্বখ্যাত রয়্যাল অ্যালবার্ট হলের মঞ্চে নিজের রচিত ধ্রুপদি সংগীত পরিবেশন করে বিচারকদের মুগ্ধ করেছে ১৬ বছর বয়সী ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কিশোর নাভহান উজায়ের রঈস চৌধুরী। গতকাল বুধবার আয়োজিত ‘ফিউচার মেকার্স ২০২৬’ সংগীত প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে সে চ্যাম্পিয়নের সম্মাননা অর্জন করে। প্রায় পাঁচ হাজার দর্শকের সামনে এই আয়োজনে জ্যাজ, পপ, গ্রাইম ও ধ্রুপদি সংগীতের বিভিন্ন পরিবেশনা ছিল, যার মধ্যে নাভহান তার নিজের কম্পোজিশন ‘লা দ্যুল্যর এক্সকিজ’ বা তীব্র বেদনা শিরোনামের পিয়ানো সংগীতটি উপস্থাপন করে। এফ-শার্প মাইনর স্কেলে রচিত এই সংগীতের মাধ্যমে সে যুদ্ধ ও ভালোবাসার গল্প ফুটিয়ে তোলে, যেখানে ডান ও বাঁ হাতের বিপরীতধর্মী সুরে সংঘাত ও আবেগের রূপ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

নাভহানের এই অর্জনের শুরু হয়েছিল ইনস্টাগ্রামে প্রতিযোগিতার একটি বিজ্ঞাপন দেখার মাধ্যমে। হাজারো আবেদনকারীর মধ্য থেকে প্রাথমিক বাছাই ও অডিশনের বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নেওয়া ৯ জন প্রতিযোগীর মধ্যে নাভহান শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুবাদে আগামী এক বছর সে সংগীত প্রযোজনা, রেকর্ডিং এবং পেশাগত সংগীতজীবন গড়ে তোলার জন্য বিশেষ সহায়তা পাবে।

২০০৯ সালে যুক্তরাজ্যে জন্মগ্রহণ করা নাভহান বর্তমানে ঐতিহ্যবাহী হ্যারো স্কুলের শিক্ষার্থী। সংগীতবৃত্তি নিয়ে সেখানে পড়াশোনা করছে সে এবং পিয়ানো ও চেলো উভয় বাদ্যযন্ত্রে ডিপ্লোমা পর্যায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তার সংগীতদক্ষতার মধ্যে রয়েছে ‘পারফেক্ট পিচ’ শনাক্ত করার ক্ষমতা। এর আগে ১৩ বছর বয়সে লন্ডনের ড্রেপার্স হলে নিজের রচিত সংগীত পরিবেশন করে সে প্রশংসা কুড়িয়েছিল। নাভহানের সংগীতচর্চায় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে ফ্রেদেরিক শোপাঁ, সের্গেই রাখমানিনভ ও ফ্রানৎস লিস্টের মতো সুরকাররা।

নাভহানের বাবা মোহাম্মদ চৌধুরী (ভুলন চৌধুরী) ও মা রুবেনা চৌধুরীর আদি বাড়ি যথাক্রমে দিনাজপুর ও সিলেটে। ১৯৯৪ ও ১৯৭৯ সাল থেকে তারা যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। রুবেনা চৌধুরী নিজেও ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। নাভহানের সংগীতের প্রতি আগ্রহ ছোটবেলা থেকেই, এবং তার বোনও সংগীতচর্চায় তাকে অনুপ্রাণিত করেছেন। এছাড়া বাংলাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী মাহমুদুন্নবী ও গীতিকার কাওসার আহমেদ চৌধুরী ছিলেন নাভহানের বাবার ফুফা।

রয়্যাল অ্যালবার্ট হলের ‘ফিউচার মেকার্স’ প্রতিযোগিতাটি ২০২২ সালে শুরু হয়, যার লক্ষ্য ১৪ থেকে ১৯ বছর বয়সী প্রতিভাবান কিশোর-তরুণ সংগীতশিল্পীদের খুঁজে বের করা এবং তাদের পেশাগতভাবে সহায়তা করা। বিজয়ীদের জন্য রেকর্ডিং স্টুডিও ব্যবহারের সুযোগ ছাড়াও রয়্যাল অ্যালবার্ট হলের এলগার রুমে নিজস্ব পরিবেশনার সুযোগ থাকে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo