আবুধাবি টি১০ লিগে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা

Published: November 5, 2026, 8:24 am

আবুধাবি টি১০ লিগে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ এখন বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) প্রতিটি অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দেওয়ার বিনিময়ে ১০ হাজার মার্কিন ডলার দাবি করায় ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো চরম বিপাকে পড়েছে। টুর্নামেন্ট শুরু হতে হাতে সময় খুব কম থাকায় ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে হয় বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে, না হয় বিকল্প খেলোয়াড় খোঁজার পথ বেছে নিতে হচ্ছে।

ক্রিকেটভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ক্রিকইনফোর তথ্য অনুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বর খেলোয়াড় বাছাই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরপরই আবুধাবি টি-টেন কর্তৃপক্ষ পিসিবির কাছে অনাপত্তিপত্রের আবেদন জানিয়েছিল। কিন্তু টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র কয়েক দিন আগে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে পিসিবি এই নতুন অর্থ প্রদানের শর্তটি সামনে আনে। খেলোয়াড় বাছাইয়ে অংশগ্রহণকারী ছয় দলের মধ্যে পাঁচটি দল পাকিস্তানের মোট ১৬ জন ক্রিকেটারকে দলে নিয়েছে। জানা গেছে, অনেক ক্রিকেটার ব্যক্তিগত পারিশ্রমিক থেকে এই ১০ হাজার ডলার দিয়ে খেলার প্রস্তাব দিলেও, শেষ পর্যন্ত দলগুলো নতুন খেলোয়াড় খোঁজার দিকেই ঝুঁকেছে।

অনাপত্তিপত্রের জন্য অর্থ দাবির বিষয়টি পিসিবির নতুন নয়। গত মাসে নেপাল প্রিমিয়ার লিগে (এনপিএল) খেলার জন্য পিসিবি জনপ্রতি ২৫ হাজার ডলার দাবি করেছিল, যার ফলে অধিকাংশ পাকিস্তানি ক্রিকেটার না খেলেই দেশে ফিরে আসেন। পিসিবির যুক্তি ছিল, যেসব লিগে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের চাহিদা বেশি কিন্তু পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) ওই দেশগুলোর ক্রিকেটারদের চাহিদা কম, সেসব ক্ষেত্রে এই অর্থ দাবি করা যৌক্তিক।

এদিকে, পিসিবির নতুন কেন্দ্রীয় চুক্তিতে বিদেশি লিগে খেলার অনাপত্তিপত্র নীতিতে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। কেন্দ্রীয় চুক্তির ‘ট্র্যাক সি’ শ্রেণির টি-টোয়েন্টি বিশেষজ্ঞ ক্রিকেটারদের জন্য বছরে লিগে অংশগ্রহণের সীমা তুলে দেওয়া হলেও, ‘ট্র্যাক এবি’ শ্রেণির ক্রিকেটারদের জন্য বছরে একটি এবং ‘ট্র্যাক বিসি’ শ্রেণির জন্য দুটি লিগে খেলার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ‘ট্র্যাক এ’ শ্রেণির টেস্ট বিশেষজ্ঞদের বিদেশি টি-টোয়েন্টি বা টি-টেন লিগে খেলার অনুমতি নেই। যদিও পিসিবি এখনো নতুন কেন্দ্রীয় চুক্তির তালিকা প্রকাশ করেনি, ফলে কোন ক্রিকেটার কোন শ্রেণিতে আছেন তা অস্পষ্ট।

রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে আইপিএলে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ বন্ধ রয়েছে এবং আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর মালিকানাধীন লিগগুলোতেও তাদের সুযোগ সীমিত। এসএ২০-এর মতো লিগে কোনো পাকিস্তানি ক্রিকেটার খেলেননি। তবে আবরার আহমেদ ও উসমান তারিকের মতো কিছু ব্যতিক্রমও রয়েছে। পিসিবির এই অনিয়মিত ও অনিশ্চিত নীতি নিয়ে খেলোয়াড়দের মধ্যে ক্ষোভ থাকলেও বোর্ড এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

আবুধাবি টি-টেনে দল পাওয়া পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের তালিকায় রয়েছেন আরবিয়ান এইসেসের সালমান ইরশাদ; এমিরেটস ঈগলসের আকিফ জাভেদ, হাসান নওয়াজ ও আলী রাজা; রয়্যাল ডেজার্ট চ্যাম্পিয়নসের নাসিম শাহ; ইউএই বুলসের শাদাব খান, মোহাম্মদ আমির, খাজা নাফে, খুশদিল শাহ, আজম খান ও মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র এবং ইউনাইটেড টাইগার্সের ফখর জামান, ইফতিখার আহমেদ, ফাহিম আশরাফ, সুফিয়ান মুকিম ও আব্বাস আফ্রিদি।

তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, ৭ নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া টুর্নামেন্টের মাত্র কয়েক দিন আগে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে পিসিবি ১০ হাজার ডলার করে দেওয়ার শর্ত জানায়।খেলোয়াড় বাছাইয়ে ছয় দলের মধ্যে পাঁচটি দল পাকিস্তানের মোট ১৬ জন ক্রিকেটারকে দলে নিয়েছে।

২০২৫-২৬ মৌসুমের কেন্দ্রীয় চুক্তির মেয়াদ গত ৩০ জুন শেষ হয়েছে।বিদেশি লিগে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সুযোগ এমনিতেই কমে আসছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy