পোশাকশিল্পে ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে টানা কয়েক দিনের শ্রমিক অসন্তোষ, সংঘর্ষ ও কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণার পর ঢাকার সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের কর্মপরিবেশ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে অধিকাংশ পোশাক কারখানায় শ্রমিকেরা উৎসবমুখর পরিবেশে কাজে যোগ দিয়েছেন। এর ফলে ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ডিইপিজেড) সহ বিভিন্ন কারখানায় শান্তিপূর্ণভাবে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
তবে শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় এখনো বেশ কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা কাজে যোগ না দিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে কর্মবিরতি পালন করছেন। তারা সকালে কারখানায় প্রবেশ করলেও পরবর্তীতে কাজ না করে বেরিয়ে যান। সরেজমিনে দেখা যায়, সকালে শ্রমিকেরা নিজস্ব পরিবহনে ও পায়ে হেঁটে কর্মস্থলে আসছেন। ডিইপিজেডসহ আশুলিয়ার-সাভারের বিভিন্ন কারখানার সামনে শ্রমিকদের স্বাভাবিক উপস্থিতি ছিল। আগের কয়েক দিনের উত্তেজনাকর পরিস্থিতির তুলনায় বৃহস্পতিবার শিল্পাঞ্চলের পরিবেশ অনেকটাই শান্ত দেখা গেছে।
শিল্প পুলিশ জানিয়েছে, সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাই শিল্পাঞ্চলের অধিকাংশ কারখানায় শ্রমিকেরা শান্তিপূর্ণভাবে কাজে যোগ দিয়েছেন এবং বর্তমানে শিল্পাঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে আশুলিয়ার নরসিংহপুর, নিশ্চিন্তপুর, জামগড়া, সরকার মার্কেট, জিরাবো ও কাঠগড়াসহ আশপাশের এলাকার কয়েকটি কারখানায় শ্রমিকদের কর্মবিরতির খবর পাওয়া গেছে। শ্রমিকেরা সকালে কারখানায় প্রবেশ করলেও উৎপাদন কার্যক্রমে অংশ না নিয়ে অবস্থান করছেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করা হয়।
ছুটি ঘোষণা করা কারখানাগুলোর মধ্যে রয়েছে বড় হামীম টিসল, শারমিন গ্রুপ, অনন্ত গার্মেন্টস লিমিটেড, ডেকো গার্মেন্টস, নিউ এইজ গার্মেন্টস, আল-মুসলিম, ট্রাওজার লাইন লিমিটেড, নীট এশিয়া লিমিটেড, টিসল ৪ বিঘা (হামীম গ্রুপ), ভিনটেজ গার্মেন্টস, এডিএল (হামীম গ্রুপ), মেডলার গার্মেন্টস, দি রোজ গার্মেন্টস, এনভয় গার্মেন্টস, এ এম ডিজাইন লিমিটেড, বান্দু ডিজাইন লিমিটেড ও এনসিএল (হামীম গ্রুপ)।
যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি, ভাঙচুর, সড়ক অবরোধ ও নাশকতা ঠেকাতে শিল্পাঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। হেমায়েতপুর, উলাইল, পদ্মার মোড়, বাইপাইল, জামগড়া, নিশ্চিন্তপুর ও নরসিংহপুরসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিজিবি, শিল্প পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে। বিশেষ করে জামগড়া, নিশ্চিন্তপুর ও নরসিংহপুর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। শিল্প পুলিশের পাশাপাশি বিজিবির বিশেষ দল টহল দিচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সমন্বয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।
শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া গণমাধ্যমকে জানান, শ্রমিক অসন্তোষের কারণে শিল্পাঞ্চলের বেশ কিছু কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে এবং শিল্পাঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।





