সিটি গ্রুপের ৫ প্রতিষ্ঠানকে ৩ হাজার কোটি টাকা ঋণে বিশেষ ছাড়

Published: November 5, 2026, 3:01 am

ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হওয়া সত্ত্বেও সিটি গ্রুপের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে ৩ হাজার কোটি টাকার চলতি মূলধন (ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল) ঋণ নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর গুরুত্বপূর্ণ একটি বিধান শিথিল করে আটটি ব্যাংকের একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এ ঋণ অর্থায়নের উদ্যোগ বাস্তবায়নে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বুধবার এক প্রজ্ঞাপন জারি করে ব্যাংক কোম্পানি আইনের ২৭ (কক) (৩) ধারার প্রয়োগ থেকে সিটি গ্রুপের পাঁচ সংস্থাকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা জানায়। আইন অনুযায়ী শ্রেণিকৃত ঋণখেলাপি কোনো প্রতিষ্ঠানকে নতুন করে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ঋণ প্রদানে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে আইনের ১২১ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, প্রস্তাবিত সিন্ডিকেট ঋণের ক্ষেত্রে ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে না।

বিশেষ এ সুবিধা পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো সিটি সিড ক্রাশিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, সিটি সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, সিটি এডিবল অয়েল লিমিটেড, সিটি ডাল মিলস লিমিটেড এবং শম্পা ফ্লাওয়ার মিলস লিমিটেড। এ পাঁচটি প্রতিষ্ঠানই বর্তমানে খেলাপি ঋণের তালিকায় রয়েছে। এর আগে সিটি ব্যাংকের নেতৃত্বে আটটি ব্যাংকের একটি কনসোর্টিয়াম চরম আর্থিক কষ্টে থাকা সিটি গ্রুপকে ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা নতুন অর্থায়নের পরিকল্পনা করেছিল। পরবর্তীতে ঋণের পরিমাণ বাড়িয়ে ৩ হাজার কোটি টাকার চলতি মূলধন ঋণে উন্নীত করা হয়। এই ঋণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত ব্যাংকিং সিন্ডিকেটে রয়েছে সিটি ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, ডাচ-বাংলা ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক এবং পূবালী ব্যাংক।

ঋণ দেওয়ার বিষয়ে জারি করা প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট শর্ত দেওয়া হয়েছে যে, এই ঋণের কোনো দায়ভার সরকার কিংবা কেন্দ্রীয় ব্যাংক বহন করবে না। ভবিষ্যতেও এ ঋণের বিপরীতে সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে কোনো আর্থিক সহায়তার দাবি জানাতে পারবে না সিটি ব্যাংক বা সিন্ডিকেটের অন্তর্ভুক্ত ব্যাংকগুলো। বিপরীতে সিটি গ্রুপকে তাদের নিজস্ব সম্পদ নিবন্ধিত বন্ধকনামার মাধ্যমে জামানত হিসেবে প্রদান করতে হবে, যা আগে অন্য কোনো ঋণ বা দায়ের বিপরীতে বন্ধক রাখা হয়নি।

প্রজ্ঞাপনের শর্তানুসারে, সিন্ডিকেটের অর্থায়নে কেনা কাঁচামাল ও উৎপাদিত পণ্য বিক্রির সমস্ত আয় নির্ধারিত একটি নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাবে জমা করতে হবে। সেই হিসাব থেকে ঋণদাতা ব্যাংকগুলোর পাওনা অর্থ নিয়মিত পরিশোধ করা হবে এবং ব্যাংকগুলোর অর্থায়নের অনুপাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। ঋণ প্রদানকারী ব্যাংকগুলোর জামানত ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা এজেন্টের প্রতিনিধি হিসেবে প্রতিষ্ঠানগুলো আমদানি করা কাঁচামাল কেনাকাটা করবে এবং জিম্মাদার হিসেবে তা প্রক্রিয়াজাত করার অনুমতি পাবে। উল্লেখ্য, দেশি ও বিদেশি ৪৮টি ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে সিটি গ্রুপের প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকার বিশাল ঋণ রয়েছে, যার একটি অংশ ইতোমধ্যে খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy