সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিক গ্রেপ্তারে লাগবে আদালতের অনুমতি

Published: November 4, 2026, 5:32 pm

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বা প্রচারিত কোনো খবরের জেরে সাংবাদিক, গণমাধ্যমের মালিক কিংবা দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের আগে সংশ্লিষ্ট আদালতের পূর্বানুমতি নেওয়ার বিধানে নীতিগত ঐকমত্য হয়েছে। সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর খসড়া পর্যালোচনায় এই প্রস্তাবটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ ও হয়রানি বন্ধের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

বুধবার ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে। ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ পর্যালোচাক সভার মূল লক্ষ্য ছিল প্রস্তাবিত আইনের খসড়া চূড়ান্ত করা। এতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।

কমিটির বৈঠকে সাংবাদিক ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের মতামতের ভিত্তিতে খসড়া আইনটি সংশোধনের বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রস্তুতকৃত এই আইনটি যেন কোনোভাবেই স্বাধীন সাংবাদিকতা চর্চা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বাধা সৃষ্টি না করে বা হয়রানির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হতে না পারে, তা নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা করেন সদস্যরা।

আলোচনায় মানহানি, হেয় প্রতিপন্ন করা এবং সাইবার বুলিংয়ের বিষয়গুলোকে আলাদাভাবে বিবেচনার প্রস্তাব আনা হয়েছে। এসব অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ধারাগুলো পুনর্গঠনের পাশাপাশি সাইবার স্পেসের সংজ্ঞাকে আরও স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট করার পক্ষে মত দেন অংশগ্রহণকারীরা। একই সঙ্গে মানহানির সংজ্ঞা ও শাস্তির বিধানের ক্ষেত্রে দণ্ডবিধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। গুজব ও অপতথ্যের অতিব্যাপক বা অস্পষ্ট সংজ্ঞার সুযোগ নিয়ে যাতে গণমাধ্যমের ক্ষতি না হয়, সে জন্য এগুলোর সংজ্ঞাও স্পষ্ট করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইনে মোবাইল কোর্টের বিধান না রাখার কথা আলোচনায় আসে। এ ছাড়া অনলাইন বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকে কোনো কনটেন্ট অপসারণ কিংবা ব্লক করার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কারণ ব্যাখ্যা করার বিধান রাখার প্রস্তাব করা হয়। ব্লক করা কনটেন্ট পুনরায় চালু করার আবেদন নিষ্পত্তিতে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ এবং কোনো সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আগে লিখিত নোটিশ ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ রাখার বিষয়টিও বিবেচনার মধ্যে রয়েছে।

সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের পরিচালনা ও সদস্য কাঠামোয় গণমাধ্যমের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। এর পাশাপাশি জাতিসংঘ, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং মেটার মতো আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ গ্রহণের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

অংশীজনদের সব প্রস্তাব ও মতামত যুক্ত করে পরিমার্জিত খসড়াটি পরবর্তীতে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। এর মাধ্যমে জনসাধারণের মতামতের সুযোগ রেখে আইনটিকে আরও বেশি সময়োপযোগী, গ্রহণযোগ্য ও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে বক্তারা সাইবার অপরাধ দমন করার পাশাপাশি নাগরিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে আইনটি চূড়ান্তকরণের প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার ওপর তাগিদ দেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh