কুমিল্লার মুরাদনগরে ইলিশবোঝাই পিকআপ ও টাকা লুটের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইদ্রিস মিয়া (২৭) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর শনির আখড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইদ্রিস মিয়া নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার হাজীপুর চৌমুহনী এলাকার মৃত হেকিম আবদুল মান্নানের ছেলে। বুধবার বিকেলে এসআরবি-১১-এর সিপিসি-২ কুমিল্লার কোম্পানি অধিনায়ক ও উপপরিচালক মেজর সাদমান ইবনে আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
মেজর সাদমান ইবনে আলম জানান, ইদ্রিস মিয়া একটি আন্তজেলা ডাকাত দলের সর্দার। তাঁর বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ডাকাতির ১৯টি মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে মুরাদনগর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। ডাকাতির ঘটনার পর থেকে গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইদ্রিস জানিয়েছেন, ডাকাতি ছাড়া তাঁর আয়ের আর কোনো নির্দিষ্ট উৎস নেই।
এসআরবি সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার রাতে মুরাদনগর উপজেলার নেয়ামতপুর এলাকায় মুরাদনগর থেকে রামচন্দ্রপুরগামী সড়কে এই ডাকাতির ঘটনা ঘটে। লক্ষ্মীপুর সদর এলাকার মাছ ব্যবসায়ী বেল্লাল হোসেন চট্টগ্রামের ফিশারিঘাটের আড়ত থেকে ইলিশ মাছ কিনে পিকআপে করে কুমিল্লার বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করছিলেন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে একটি সাদা রঙের পিকআপ দিয়ে তাঁদের গতিরোধ করা হয়। এ সময় ১০-১২ জনের একটি দল দেশি অস্ত্র নিয়ে তাঁদের মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
ডাকাতেরা মাছ ব্যবসায়ী বেল্লাল হোসেন, গাড়িচালক ও তাঁর সহযোগীকে হাত-পা ও মুখ বেঁধে সড়কের পাশে ফেলে রাখে। এরপর প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ইলিশবোঝাই পিকআপটি এবং বেল্লাল হোসেনের কাছে থাকা নগদ ৭১ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করলে বেল্লাল হোসেন বাদী হয়ে মুরাদনগর থানায় ডাকাতির মামলা করেন। ঘটনার পর পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে এবং তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এসআরবি ছায়া তদন্ত শুরু করে। পরে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআরবি-১১, কুমিল্লা এবং এসআরবি-১০, যাত্রাবাড়ীর একটি যৌথ দল চার ঘণ্টার অভিযানে ইদ্রিস মিয়াকে গ্রেপ্তার করে।





