ক্যালিফোর্নিয়ার ২০ হাজার ব্যালট আলাদা করার ট্রাম্পের আবেদন খারিজ

Published: November 3, 2026, 6:22 am

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোটগ্রহণের শেষ দিনের কয়েক ঘণ্টা আগে ক্যালিফোর্নিয়ার প্রায় ২০ হাজার ভোটারের ব্যালট আলাদা করে রাখার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের করা জরুরি আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। সোমবারের এ সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণী নির্বাচনে প্রভাব ফেলার চেষ্টায় ট্রাম্প প্রশাসনের ধারাবাহিক আইনি পরাজয়ে নতুন মাত্রা যুক্ত হলো। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) তথ্য অনুযায়ী, সর্বোচ্চ আদালতের এই জরুরি আদেশে সুপ্রিম কোর্টের কোনো বিচারপতিই প্রকাশ্যে ভিন্নমত প্রকাশ করেননি।

চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে অমার্কিন নাগরিকদের ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হওয়ার বিষয়টি শনাক্ত করাকে প্রাধান্য দেয় ট্রাম্প প্রশাসন, যদিও দেশটিতে এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত বিরল। প্রশাসনের দাবি ছিল, ক্যালিফোর্নিয়ার ভোটার তালিকায় থাকা প্রায় ২০ হাজার ব্যক্তি মার্কিন নাগরিক নন, তাই নাগরিকত্ব যাচাই না হওয়া পর্যন্ত তাদের ডাকযোগে পাঠানো ব্যালটগুলো পৃথক করে রাখতে হবে। তবে ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্য কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকারের তৈরি তালিকায় অসংখ্য ভুল রয়েছে। এসব ব্যালট আলাদা করা হলে বহু বৈধ নাগরিকের ভোটাধিকার হরণ করা হবে। সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের পর ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট গভর্নর গ্যাভিন নিউসম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, অপর পক্ষের যুক্তি শোনার প্রয়োজন না মনে করেই আদালত আবেদনটি খারিজ করেছেন এবং 'গণতন্ত্রের জয় হয়েছে'।

রাজ্যটির অ্যাটর্নি জেনারেল রব বন্টা এক বিবৃতিতে জানান, ট্রাম্প প্রশাসনের এ জাতীয় হস্তক্ষেপের চেষ্টা ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট, নবম সার্কিট আপিল আদালত ও সুপ্রিম কোর্ট মিলিয়ে মোট চারবার আদালতে প্রত্যাখ্যাত হলো। ফলে ক্যালিফোর্নিয়ার নির্বাচন ব্যাহত করার এসব পদক্ষেপের এখনই ইতি ঘটা উচিত। নিয়ম অনুযায়ী জরুরি আবেদনের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি। তবে ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করেছিল, ব্যালট পৃথক রাখা সামান্য একটি পদক্ষেপ এবং নাগরিকত্ব নিশ্চিত হলে বৈধ ভোটগুলো গণনায় অন্তর্ভুক্ত হতো। এর আগেই নিম্ন আদালতগুলো এই আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিল এবং আলাস্কার নির্বাচনের ফল অনুমোদন ঠেকানোর ট্রাম্প প্রশাসনের আরেকটি মামলাও শুনানি ছাড়া খারিজ করেন একজন বিচারক।

সোমবার ওয়াশিংটনে অপর একটি মামলায় ফেডারেল বিচারক জেমস বোয়াসবার্গ রায় দেন যে ক্যালিফোর্নিয়ার নির্বাচন কর্মকর্তাদের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের শেষ মুহূর্তের চাপ সৃষ্টি অসাংবিধানিক। বিচারক জানান, নির্বাহী বিভাগ সম্ভবত মার্কিন সংবিধানের নির্বাচনবিষয়ক ধারা লঙ্ঘন করেছে, কারণ নির্বাচনের নিয়ম নির্ধারণের এখতিয়ার কেবল অঙ্গরাজ্য ও কংগ্রেসের। তবে একই বিচারক পরে পৃথক একটি মামলায় প্রশাসনকে এমন দাবি জানানো থেকে বিরত রাখতে নতুন নিষেধাজ্ঞা দিতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি উল্লেখ করেন, মামলাটি দায়ের করা ডেমোক্র্যাট সংগঠনগুলোর আইনি অধিকারের ঘাটতি রয়েছে এবং বিষয়টি ইতিমধ্যেই আদালত ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ে নিষ্পত্তি হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় বিচার বিভাগের দেওয়া তালিকার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে সান ফ্রান্সিসকোর একটি আদালতেও তীব্র প্রশ্ন ওঠে। শুনানিকালে বিচারক ট্রিনা থম্পসন বিচার বিভাগের আইনজীবী কেনেথ কাওয়ের কাছে জানতে চান তালিকায় ভুলের হার বেশি কি না। কাও স্বীকার করেন যে বক্তব্যটি যথার্থ এবং সে কারণেই স্থানীয় ভোটার নিবন্ধন কর্মকর্তাদের সহায়তায় নাগরিকত্ব যাচাইয়ের কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে লস অ্যাঞ্জেলেসের দায়িত্বপ্রাপ্ত ফেডারেল কৌঁসুলি বিল এসাইলি সংবাদ সম্মেলনে তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের অযোগ্য দাবি করলেও পরে ভুলের সম্ভাবনা মেনে নেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় বিচারক থম্পসন তার আগের নির্দেশনা বাড়িয়ে নির্দেশ দেন যে ওই তালিকার ভিত্তিতে অমার্কিন নাগরিকদের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ তদন্ত বা মামলা করার আগে বিচার বিভাগকে আদালতকে অবহিত করতে হবে।

অক্টোবরের শুরু থেকে ক্যালিফোর্নিয়ায় ডাকযোগে আগাম ভোটগ্রহণ চলছে, যেখানে প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ নিবন্ধিত ভোটারের সবার কাছে ব্যালট পাঠানো হয়েছিল এবং এপির হিসাব অনুযায়ী ইতিমধ্যেই ৬০ লাখের বেশি ব্যালট ফেরত এসেছে। রাজ্যটির নির্বাচন কর্মকর্তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভোটগ্রহণের এই শেষ পর্যায়ে এসে হাজার হাজার ব্যালট আলাদা করা বাস্তবে প্রায় অসম্ভব। গত সপ্তাহে এক ডিস্ট্রিক্ট বিচারকও সতর্ক করে বলেছিলেন যে, প্রমাণহীন অভিযোগের ভিত্তিতে চলমান নির্বাচনে ব্যালট আলাদা করার চেষ্টা নির্বাচনী ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট করবে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy