ইরানের কেশম দ্বীপে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল সোমবার এই অভিযানের তথ্য প্রকাশ করেছে। ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো সীমিত পরিসরের ধারাবাহিক সামরিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তবে দ্বীপে আক্রমণের খবরের মধ্যেই তেহরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অবসানে আলোচনার আশাবাদ শুনিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
হরমুজ প্রণালীর কৌশলগত অবস্থান জুড়ে রয়েছে ইরানের সবচেয়ে বড় দ্বীপ কেশম। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, অল্প সময়ের ব্যবধানে দ্বীপটিতে পরপর পাঁচটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। সে সময় স্থানীয় কয়েকজন অধিবাসী আকাশে দুটি উড়োজাহাজ উড়ার দৃশ্যও দেখতে পান। এই সামরিক অ্যাকশনের বিষয়ে পেন্টাগনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তারা মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকমের সঙ্গে যোগাযোগের নির্দেশ দেয়। তবে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি সোমবার গভীর রাতেও জানতে চাইলে সেন্টকম তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল তাদের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করেছে, মার্কিন প্রশাসন কয়েক সপ্তাহ ধরেই ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষুদ্র পরিসরে অভিযান পরিচালনা করছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের একটি অংশ দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথে পণ্যবাহী জাহাজে ইরানের সম্ভাব্য হামলা প্রতিরোধ করতেই এসব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে, যা মূলত একধরনের প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা। উল্লেখ্য, বৈশ্বিক তেলের বাজারের জন্য অতিগুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী গত ফেব্রুয়ারির শেষভাগে যুদ্ধ সূচনার পর থেকেই ইরানের তৈরি অবরোধের কারণে স্বাভাবিক যান চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে।
চলমান এসব অভিযানের বিষয়ে ওয়াশিংটন আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত রয়েছে। বড় ধরনের কোনো পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরুর বার্তা যাতে ছড়াতে না পারে, সেই ভাবনা থেকেই এই সামরিক পদক্ষেপগুলো গোপন রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগের দিন সোমবার ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেন যে তেহরানের সঙ্গে চুক্তি সইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। ট্রাম্পের এমন ইতিবাচক ইঙ্গিতে দীর্ঘায়িত সংঘাত থামার এক নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ করে রাখার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য চরম মাত্রায় বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা এবং সংঘাত কেটে যাওয়ার প্রত্যাশায় সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৭ শতাংশের বেশি হ্রাস পায়।





