যুদ্ধবিরতি শেষে ইউক্রেনে রাশিয়ার বিমান হামলায় নিহত ২৬

Published: November 3, 2026, 5:47 am

ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলের একটি গ্রামে মানবিক সহায়তা কেন্দ্রে রাশিয়ার বিমান হামলায় অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয়ভাবে কার্যকর থাকা একটি যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায় এ হামলা চালানো হয়। এর ফলে শান্তির পথে অগ্রগতির যে ক্ষীণ আশা তৈরি হয়েছিল, তা ভেঙে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত গভর্নর মিখাইলো সেমিকিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে জানিয়েছেন, বিমান হামলায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন জরুরি সেবা বিভাগের উদ্ধারকর্মী এবং চারজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগ নিহত দুই উদ্ধারকর্মীর পরিচয় প্রকাশ করে জানিয়েছে, তাঁরা হলেন ৪৪ বছর বয়সী ডেনিস কোনোভালেঙ্কো এবং ওলেক্সি সুশচেভস্কি। বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে অন্যদের জীবন বাঁচাতে গিয়ে তাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন উল্লেখ করে সংস্থাটি শোক প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া স্কুল ভবনের উদ্ধারকাজের একটি ভিডিও ফুটেজও প্রকাশ করে তারা।

ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, খেরসন অঞ্চলের পাশের ওই গ্রামটিতে প্রতি সোমবার স্থানীয় মানুষের মধ্যে মানবিক সহায়তা বিতরণ করা হতো। ঘটনার দিন সাধারণ মানুষ সেখানে পৌঁছানো মাত্রই প্রথম দফায় বিমান থেকে বোমা বর্ষণ করে রুশ বাহিনী। এরপর মানুষজন নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে দ্বিতীয় দফায় সরাসরি আশ্রয়কেন্দ্র লক্ষ্য করে বোমাবর্ষণ করা হয়। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি তাঁর দৈনন্দিন ভাষণে বলেন, ওলেশকিতে যুদ্ধবিরতির পর শান্তির দিকে এগোনোর একটি সুযোগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু এ হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে রাশিয়া স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে তারা আরও ধ্বংস ও হত্যার ওপরই নির্ভর করছে, যার উপযুক্ত জবাব দেওয়া প্রয়োজন।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় রাশিয়ার দখলে থাকা ওলেশকি শহর থেকে বেসামরিক মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার মানবিক অভিযানের জন্য গত মঙ্গলবার থেকে রোববার পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটিই ছিল দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘতম যুদ্ধবিরতি। এই সময়ের মধ্যে কোনো পক্ষই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেনি। ইউক্রেনের মানবাধিকারবিষয়ক কমিশনার দিমিত্রো লুবিনেৎস এবং রাশিয়ার মানবাধিকারবিষয়ক কমিশনার ইয়ানা লানত্রাতোভার যৌথ তদারকিতে এই অভিযানের মাধ্যমে মানুষকে ইউক্রেন নিয়ন্ত্রিত ভূখণ্ড ও ক্রিমিয়ায় সরিয়ে নেওয়া হয়। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এ অভিযানকে ‘সফল’ বলে অভিহিত করেন। তবে বর্তমানে এ ধরনের আর কোনো অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা নেই বলে মস্কো জানিয়েছে।

এদিকে ১ নভেম্বর ইউক্রেনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, কিয়েভ যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব দিলেও তা প্রত্যাখ্যান করে মস্কো। উল্টো ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনী অভিযোগ তোলে, যুদ্ধবিরতির সময়টিকে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার কাজে ব্যবহার করেছে রাশিয়া। এ অভিযোগের জবাবে ২ নভেম্বর ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, যুদ্ধের বিরতিগুলো নিজেদের পুনর্গঠনে ব্যবহার করা অত্যন্ত স্বাভাবিক চর্চা এবং অতীতে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীও একই কাজ করেছে।

দীর্ঘদিন ধরে চলা এই যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে আগামী সপ্তাহে আবুধাবিতে নতুন আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ২ নভেম্বর জানান, ১০ ও ১১ নভেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। তবে সমঝোতার এই উদ্যোগের মাঝেই ট্রাম্পের নীতি ক্রমেই মস্কোর অনুকূলে যাচ্ছে বলে কিয়েভ ও তার ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

হামলার পর রোববার রাতেই উভয় দেশের জরুরি সতর্কতামূলক অ্যাপে বড় ধরনের সাইবার হামলার ঘটনা ঘটে। ইউক্রেনের বিমান হামলার সতর্কতাব্যবস্থা হ্যাক করে লাখ লাখ মানুষের মোবাইলে তেজস্ক্রিয়তার ভুয়া হুমকি পাঠানো হয়। একই সঙ্গে রাশিয়ার জরুরি পরিস্থিতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অ্যাপেও সাইবার হামলা চালানো হয়। সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও দ্রুতগতির ড্রোন ব্যবহার করে হামলার তীব্রতা বহু গুণ বাড়িয়েছে, যা প্রতিহত করতে ইউক্রেনীয় বাহিনীকে প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হচ্ছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo