মৌলভীবাজারের আলোচিত কলেজছাত্র রেজাউল করিম নাঈম হত্যা মামলায় চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার মৌলভীবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ রবিউল আউয়াল এই রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে মামলার অপর পাঁচ আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন নুরুল ইসলাম, সায়মন ইসলাম, নাহিদুল ইসলাম রনি ও আনোয়ার হোসেন। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে নুরুল ইসলাম ও সায়মন ইসলাম বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন, অন্যদিকে রনি ও আনোয়ার হোসেন পলাতক।
মামলার এজাহার ও আদালতের নথিপত্র থেকে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৭ নভেম্বর মৌলভীবাজার সদর উপজেলার চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের বর্ষিজোড়া এলাকায় ফেসবুকে ছবি পোস্ট করা নিয়ে নাঈমের সঙ্গে রনি মিয়ার কথা-কাটাকাটি হয়। এই ঘটনার সূত্র ধরে পরবর্তীতে নাঈমের বাবা চেরাগ মিয়ার বাড়িতে নুরুল ইসলামের সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, এক পর্যায়ে নুরুল ইসলাম নাঈমের বাবা-মাকে গালিগালাজ ও মারধর করেন। নাঈম এর প্রতিবাদ করলে নুরুল ইসলাম, তাঁর ছেলে রনি ও সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে নাঈমের ওপর হামলা চালায়, যার ফলে তিনি গুরুতর আহত হন।
আহত নাঈমকে প্রথমে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় নাঈমের বাবা চেরাগ মিয়া ৯ নভেম্বর মৌলভীবাজার মডেল থানায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। এছাড়া সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ না হওয়ায় পাঁচজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। রায়ের পর নিহত নাঈমের পরিবার এবং রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট ড. আব্দুল মতিন চৌধুরী সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা দ্রুত রায় কার্যকরের পাশাপাশি পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। পিপি জানান, প্রকৃত দোষীদের দণ্ড প্রদানের ফলে সাধারণ মানুষের আইনের প্রতি আস্থা ও শ্রদ্ধা বৃদ্ধি পাবে।





