রাঙামাটি শহরে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য, মাদকের বিস্তার এবং বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণে জেলা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সমন্বিত যৌথ বাহিনী একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর শহরের বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকা, বখাটেদের আড্ডাস্থল এবং মাদক কেনাবেচার স্থানগুলোতে এই সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়। কোতয়ালি থানা পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে সন্দেহভাজন হিসেবে অন্তত ৩৫ জনকে আটক করা হয়েছে।
আটককৃতদের বিষয়ে রাঙামাটির পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবদুর রকিব জানান, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। তিনি বলেন, আটক ব্যক্তিদের পিসিবিআর বা অপরাধের অতীত রেকর্ড যাচাই করা হচ্ছে। যাদের বিরুদ্ধে মামলা বা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, যারা অপরাধের সঙ্গে জড়িত নয়, তাদের অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হবে। নিরীহ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং জননিরাপত্তা বজায় রাখতে পুলিশের প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসীম উদ্দীন জানান, সন্ধ্যার পর থেকে এলাকাভিত্তিক তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় এমন ব্যক্তিদের অভিভাবকদের থানায় ডেকে এনে জিম্মায় মুক্তি দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া অপরাধী শনাক্তকরণে এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে, অভিযান চলাকালে শহরের শান্তিনগর এলাকায় স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। স্থানীয় অভিভাবকদের একটি অংশের অভিযোগ, অভিযানে অনেক নিরীহ শিশু-কিশোরকে আটক করা হয়েছে। এই অভিযোগে ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকরা প্রায় এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করেন। পরবর্তীতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ওসি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নিরীহদের যাচাই-বাছাই করে ছেড়ে দেওয়ার আশ্বাস দিলে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়। রাতে কোতয়ালি থানায় আটক ব্যক্তিদের স্বজন ও উৎসুক মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।





