মরিয়মের মৃত্যু: এমপি নজরুলের জামিনে অনাপত্তি পরিবারের

Published: September 30, 2026, 1:01 pm

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে জামিন দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন নিহত মরিয়ম আক্তারের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহর আদালতে উপস্থিত হয়ে তিনি হলফনামার মাধ্যমে এই অনাপত্তির কথা জানান।

আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান আদালতকে জানিয়েছেন, আপসের শর্তেই মূলত এই জামিন আবেদন করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন যে, আসামিরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন এবং বাদীপক্ষের সঙ্গে ইতোমধ্যে আপস-মীমাংসা সম্পন্ন হয়েছে। শুনানি শেষে আদালত জানিয়েছেন, এ বিষয়ে আদেশ পরে প্রদান করা হবে।

এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর গাজী নজরুল ইসলামকে চার দিনের এবং তার স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছিলেন আদালত। পরে ২৪ সেপ্টেম্বর গাজী নজরুল ইসলামকে আরও চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। দুই দফায় মোট আট দিনের রিমান্ড শেষে গত ২৮ সেপ্টেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। একই মামলায় মাকছুদা ইসলামকে ২২ সেপ্টেম্বর এবং অপর আসামি মো. ওবায়দুর রহমানকে ২৩ সেপ্টেম্বর কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।

মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেছিলেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি বছরের জুন মাসে ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। মরিয়ম বিভিন্ন সময় মুঠোফোনে পরিবারের সদস্যদের কাছে এসব নির্যাতনের কথা জানিয়েছিলেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, গত ২০ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গাজী নজরুল ইসলাম ফোন করে মরিয়মের বাবাকে তার বাসায় ডাকেন। সেখানে গিয়ে মরিয়মের বাবা তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। মরিয়মের বিছানায় হাতে লেখা একটি ‘সুইসাইড নোট’ পাওয়া গিয়েছিল, যেখানে বিশ্বাসভঙ্গ ও মানসিক কষ্টের কথা উল্লেখ ছিল। মামলার এজাহারে মরিয়মের বাবার অভিযোগ, মো. ওবায়দুর রহমানের প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় এই বিয়ে হয়েছিল এবং স্বামী ও তার প্রথম স্ত্রীর নির্যাতনের কারণেই মরিয়ম আত্মহত্যা করেছেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin