তুরস্কে কপ৩১ জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

Published: November 3, 2026, 3:08 am

তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের ৩১তম জলবায়ু সম্মেলনে (কপ৩১) অংশ নিতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর আনতালিয়া এক্সপো সেন্টারে আয়োজিত এই বৈশ্বিক সম্মেলনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ দুই দিনব্যাপী 'ওয়ার্ল্ড লিডার্স ক্লাইমেট অ্যাকশন সামিট'। এই উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ দল নিজেদের অবস্থান ও দাবি বৈশ্বিক দরবারে তুলে ধরবে।

সোমবার (২ নভেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সফরে তুরস্ক যাবেন এবং আগামী ১১ ও ১২ নভেম্বর বিশ্ব নেতাদের জলবায়ু সম্মেলনে অংশ নেবেন।

সম্মেলনে বাংলাদেশের মূল দাবি ও কৌশলের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্বজুড়ে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে বাংলাদেশের ভূমিকা প্রায় শূন্যের কাছাকাছি হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের চরম বিরূপ প্রভাব সহ্য করতে হচ্ছে এ দেশের মানুষকে। তাই জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশ ঋণের পরিবর্তে অনুদানভিত্তিক অর্থায়নের পক্ষে জোরালো অবস্থান নেবে। কারণ নগণ্য কার্বন নির্গমনকারী জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর ওপর নতুন করে ঋণের বোঝা চাপানো যুক্তিসংগত নয়। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক চুক্তির অধীনে প্রধান কার্বন নির্গমনকারী দেশগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর প্রতি উন্নত দেশগুলোকে তাদের দায়িত্ব পালনে চাপ দেওয়ার বিষয়টিতেও বাংলাদেশ বিশেষ জোর দেবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, গত ছয় মাসে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার কর্তৃক গৃহীত পরিবেশ ও জলবায়ু সম্পর্কিত নানামুখী উদ্যোগ সম্মেলনে বিশ্ব নেতাদের সামনে উপস্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে দেশজুড়ে খাল খনন, ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং সৌরবিদ্যুৎসহ অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর দেওয়া বিশেষ গুরুত্ব। সরকারের এসব পদক্ষেপ জলবায়ু সহনশীলতা জোরদার, পরিবেশ সুরক্ষা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন।

আন্তর্জাতিক এই মঞ্চে বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়া এবং বৃহত্তর এশিয়ার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের মানুষ কীভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলছে ও খাপ খাইয়ে নিচ্ছে, তাও তুলে ধরা হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অন্যতম বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়নকে সহজলভ্য ও পূর্বানুমানযোগ্য করার দাবি জানিয়ে আসছে। বিশেষ করে জলবায়ু অভিযোজন, দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে এ অর্থায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট সফরসূচি, সফরসঙ্গীদের তালিকা এবং সম্মেলনে বাংলাদেশের বিস্তারিত আলোচ্য বিষয় সম্পর্কে জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ জানান, দেশত্যাগের আগে সরকারের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক প্রেস ব্রিফিং করা হবে, সেখানেই বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় রাজনৈতিক অঙ্গীকার জোরদার, প্যারিস চুক্তির বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা, জলবায়ু অভিযোজন জোরদার করা, ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানির দিকে বৈশ্বিক রূপান্তরকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই বিশ্ব নেতারা এই সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন। এবারের কপ৩১ সম্মেলনের আয়োজক ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে তুরস্ক, আর দরকষাকষি ও আলোচনার মূল সভাপতিত্বের দায়িত্বে থাকবে অস্ট্রেলিয়া।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin