বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলোর বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের পেছনে ‘আত্মরক্ষা’ এবং ‘অস্ত্র উদ্ধারে গুলি’ বর্ষণের একই পুরানো চেনা স্ক্রিপ্ট ব্যবহার হয়ে আসছে বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্ট আলোচকেরা। তাদের মতে, শৃঙ্খলা বাহিনীগুলো আত্মরক্ষা ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে সমার্থক শব্দে পরিণত করেছে, যা দেশের বিদ্যমান ফৌজদারি আইনের দুর্বলতাকেই স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে।
সোমবার জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা সেমিনার সিরিজ’-এর দ্বিতীয় পর্বের আলোচনায় বক্তারা এসব কথা তুলে ধরেন। সেমিনারের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল স্বাধীনতার পরপরই গঠিত বিতর্কিত ‘জাতীয় রক্ষীবাহিনী’র ইতিহাসকে। সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, আইনজীবী, শিক্ষার্থী এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
মূল বক্তব্য উপস্থাপন ও মুক্ত আলোচনা শেষে সভাপতির বক্তব্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক এহ্সান মাহমুদ বলেন, স্বাধীনতার পরপরই দেশের সাধারণ মানুষের কাছে সবচেয়ে ভীতিকর দুটি শব্দ ছিল ‘রক্ষীবাহিনী’ ও ‘বাকশাল’। সেমিনারে আলোচকেরা রক্ষীবাহিনীর নানা লোমহর্ষক ঘটনা ও ইতিহাস উন্মোচন করেছেন। তিনি আফসোস প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস নিয়ে নানা কাজ হলেও ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ ('৭২ থেকে '৭৫) সালের শাসনকাল নিয়ে মানসম্মত গবেষণা ও ঐতিহাসিক দলিলের চরম অভাব রয়েছে।
স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক আরও উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশবাসীকে এক নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছে। তবে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গঠনে অতীত ইতিহাস নিরপেক্ষভাবে জানা জরুরি। স্বাধীনতার পর যেভাবে একচ্ছত্র শাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল, চারটি সরকারি পত্রিকা ছাড়া সব সংবাদপত্র বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং রক্ষীবাহিনী গঠন করে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বিচারবহির্ভূত হত্যা শুরু হয়েছিল—সেসব সত্য ইতিহাস সবার সামনে তুলে ধরতেই এই সেমিনার আয়োজনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হবে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই সেমিনার সিরিজের পরবর্তী পর্বগুলো ধারাবাহিকভাবে অনুষ্ঠিত হবে।
প্রকাশ : ০২ নভেম্বর ২০২৬, ২৩: ২৮আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২৬, ২৩: ৩০





