তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের কাছেই মিলল তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল

Published: October 30, 2026, 6:19 am

তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরীর (২৮) ভাসমান মরদেহ উদ্ধারের স্থানটির খুব কাছেই তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি পাওয়া গেছে। শুক্রবার সকালে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধান মোস্তফা কামাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহ যেখান থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল, তার ৫০ গজ দূরেই মোটরসাইকেলটি পাওয়া গেছে। তবে পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ জানিয়েছেন, উদ্ধার করা মোটরসাইকেলটি কার তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং তারা এ বিষয়ে নৌপুলিশকে তদন্তে সহায়তা করছেন।

তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় তার বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বৃহস্পতিবার রাতে পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তর হেফাজতে নিয়েছে। দীপকে নিয়ে রাতভর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে। পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দীপ দাবি করেছে, ঘটনার দিন তাহসিফের সঙ্গে তার কথা হচ্ছিল। এক পর্যায়ে কিছু লোক তাদের ধাওয়া করলে তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন এবং দীপ পালিয়ে যান। তবে দীপের এই বক্তব্যসহ জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া অন্যান্য তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

পিবিআই প্রধান মোস্তফা কামাল জানিয়েছেন, দীপকে হেফাজতে নেওয়ার পর বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তের স্বার্থে সেসব তথ্য এখনই প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তিনি আরও জানান, তাহসিফ এবং দীপ ঘটনার দিন মোটরসাইকেল ঠিক করা ও রেস্তোরাঁয় যাওয়া ছাড়া আর কোথায় কোথায় গিয়েছিলেন, সেই স্থানগুলোতেও অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।

নিখোঁজ হওয়ার আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দীপের ফোন পেয়ে তাহসিফ বাসা থেকে বের হয়েছিলেন বলে তার বাবা এনায়েতুল করিম জানিয়েছিলেন। রাত ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে তাহসিফ তার মায়ের মোবাইলে একটি বার্তা পাঠিয়ে জানান যে তিনি বাসায় ফিরছেন। তবে ওই বার্তায় তাহসিফকে কিছুটা ব্যস্ত মনে হয়েছিল বলে তার বাবা জানিয়েছেন। এদিকে তাহসিফের এক নিকটাত্মীয়ের দাবি, মায়ের ফোনে আসা সবশেষ ভয়েস মেসেজটি তাহসিফের কণ্ঠ বলে মনে হয়নি।

বিমানবাহিনীর সাবেক এই কর্মকর্তা উত্তরার দিয়াবাড়ির বাসা থেকে নিজের বাইক নিয়ে বেরিয়েছিলেন। মরদেহ উদ্ধারের সময় নৌপুলিশ হাতঘড়ি ও মানিব্যাগ উদ্ধার করলেও তখন বাইকটি পাওয়া যায়নি। এর আগে দীপ দাবি করেছিলেন, বাসা থেকে বের হওয়ার পর তারা একটি গ্যারেজে বাইক ঠিক করেন এবং উত্তরার রুয়া শপিং কমপ্লেক্সের ‘কুকরুকু’ রেস্তোরাঁয় রাতের খাবার খান। দীপ জানিয়েছিলেন, উত্তরা হাউজ বিল্ডিং এলাকা পর্যন্ত তারা একসঙ্গে ছিলেন এবং রাত ১২টার দিকে আলাদা হয়ে যান। এরপর তাহসিফের বিষয়ে তিনি আর কিছু জানেন না বলে দাবি করেছিলেন। দীপ একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্প্রতি স্নাতক সম্পন্ন করেছেন এবং তার বাসা রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল এলাকায়।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy