নগদের অবরুদ্ধ ৭৮৬ কোটি টাকার শেয়ার ছাড়াতে আদালতে আবেদন

Published: November 1, 2026, 6:46 pm

মোবাইলে আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান নগদ লিমিটেডের ৭৮৬ কোটি ৩৯ লাখ ২৮৪ টাকার অবরুদ্ধ শেয়ার ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এই আবেদনের ওপর শুনানির জন্য সোমবার ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতে দিন ধার্য করা হয়েছে। তবে এই শেয়ার অবমুক্ত করার আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের সহকারী পরিচালক (কোর্ট) আমিনুল ইসলাম প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, নগদ কর্তৃপক্ষ অবরুদ্ধ শেয়ার ছেড়ে দেওয়ার আবেদন করেছে এবং সোমবার শুনানির দিন নির্ধারিত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, নগদের এই অবরুদ্ধ শেয়ার যাতে কোনোভাবেই ছেড়ে দেওয়া না হয়, সেজন্য দুদক আদালতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাবে।

এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবির দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নগদ লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর আহমেদ মিশুকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা ৭৮৬ কোটি ৩৯ লাখ ২৮৪ টাকার শেয়ার অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। দুদকের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা ও সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান মিরাজের আবেদনের ভিত্তিতে আদালত এই আদেশ প্রদান করেন।

দুদকের অনুসন্ধানে প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সফটওয়্যার জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি ভাতার অব্যবহৃত অর্থ ২৪ হাজার ১৫৯টি ভুয়া উদ্যোক্তার ওয়ালেটে স্থানান্তর করা হয়েছে। পরবর্তীতে এসব অর্থ ৬৪৮টি ভুয়া ডিএসও এবং ৩৪টি অননুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটরের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে সরিয়ে ফেলা হয়। এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ১ হাজার ৭০৬ কোটি ৩৮ লাখ ৫৪ হাজার ২২৯ টাকা আত্মসাতের প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে। আত্মসাৎ করা অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে থার্ড ওয়েভ টেকনোলজিস লিমিটেডের (বর্তমান নগদ) ১৬ কোটি ৮৪ লাখ ৩৪ হাজার ১২৭টি শেয়ার কেনায় ব্যবহার করা হয়েছে বলে দুদক দাবি করেছে।

দুদকের অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অননুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটরের মাধ্যমে সরকারি অর্থ সরিয়ে নেওয়া, বৈধ চ্যানেলে বৈদেশিক মুদ্রা না এনে অনাবাসী বিনিয়োগকারীদের নামে শেয়ার হস্তান্তর, জিরো কুপন বন্ডের অর্থ দিয়ে বিদেশি ঋণ পরিশোধ এবং বিদেশে অর্থ পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা শেয়ারগুলো বিক্রি বা হস্তান্তরের চেষ্টা করছেন বলে দুদকের ধারণা। অনুসন্ধান শেষ হওয়ার আগেই শেয়ার হস্তান্তর বা বিক্রির মাধ্যমে বড় ধরনের রাষ্ট্রীয় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা থাকায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ও দুদক বিধিমালা অনুযায়ী শেয়ারগুলো অবরুদ্ধ রাখা প্রয়োজন বলে দুদক তাদের আবেদনে উল্লেখ করেছিল।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo