দূরনিয়ন্ত্রিত মাদক ল্যাবের মালিক যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক তৌসিফ ওয়ারীতে গ্রেপ্তার

Published: November 1, 2026, 4:41 pm

রাজধানীর ওয়ারীর একটি আবাসিক ভবনে বিশেষায়িত ল্যাব স্থাপন করে অপ্রচলিত সিনথেটিক মাদক ‘কুশ’ চাষ ও সরবরাহের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক তৌসিফ হাসানকে (২২) গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। গতকাল রোববার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে ওয়ারী থানার র‌্যাংকিন স্ট্রিটের বাসায় অভিযান চালিয়ে ডিএনসির ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের একটি দল তাঁকে গ্রেপ্তার করে। দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে পলাতক থাকা তৌসিফ সম্প্রতি দেশে ফেরেন বলে নিশ্চিত করেছে সংস্থাটি।

ডিএনসির তদন্তে উঠে এসেছে, তৌসিফ যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থানকালেই কুশ চাষের কৌশল শেখেন। পরবর্তীতে দেশে ফিরে তিনি নিজের ওয়ারীর বাসায় বিশেষ ল্যাব তৈরি করে কুশ চাষ শুরু করেন। পুনরায় বিদেশে চলে গেলেও প্রযুক্তির সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বসেই দূরনিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে ঢাকার ল্যাবের তাপমাত্রা ও সার্বিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতেন তিনি। এই কার্যক্রমে তাঁকে সহযোগিতা করতেন তাঁর এক বান্ধবী।

চলতি বছরের গত জানুয়ারি মাসে আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে ৩২টি ইয়াবা পাঠানোর চেষ্টা চালান তৌসিফের ওই বান্ধবী। ডিএনসি অভিযান চালিয়ে ইয়াবাগুলো উদ্ধার করে এবং ওই বান্ধবী ও তৌসিফের বাসার তত্ত্বাবধায়ককে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় টঙ্গী পশ্চিম থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে তৌসিফকে পলাতক আসামি করা হয়েছিল। ওই আন্তর্জাতিক চোরাচালানের তদন্তের সূত্র ধরেই ওয়ারীতে তৌসিফের বিশেষ ল্যাবের সন্ধান পায় আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী।

জানুয়ারির সেই অভিযানে ওয়ারীর বাসায় তল্লাশি চালিয়ে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে আনা কুশের বীজ, টবে চাষ করা গাছ, সংগৃহীত কুশ ও চাষের নানা উপকরণ উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি বাসার ছাদে টিন ও ফয়েল পেপার দিয়ে নির্মিত তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত বিশেষ কক্ষেও কুশ চাষের প্রমাণ মেলে। সে সময় ল্যাবটি থেকে সিসা সেবনের সরঞ্জাম ও বিদেশি মদও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল।

তৌসিফ দেশে ফেরার পর দীর্ঘদিন ধরে তাঁর অবস্থান শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল ডিএনসি। রোববার তাঁকে গ্রেপ্তারের পর ডোপ টেস্ট করা হলে তাঁর শরীরে মেথামফিটামিন ও ক্যানাবিনয়েড—এই দুটি মাদকের উপাদান পাওয়া যায়। গ্রেপ্তারের সময় তাঁর কাছ থেকে ১০টি মেথামফিটামিনযুক্ত ইয়াবা, ১০০ গ্রাম গাঁজা এবং মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তৌসিফ স্বীকার করেছেন যে তিনি ঢাকার বিভিন্ন মাদক কারবারির কাছে ইয়াবা ও কুশ সরবরাহ করতেন। তাঁর মাদক সংগ্রহ ও বিক্রির মূল উৎস এবং এই চক্রে আর কারা জড়িত রয়েছে, তা নিয়ে অনুসন্ধান চালাচ্ছ ডিএনসি। উদ্ধার করা মাদক নিজের হেফাজতে রাখার অপরাধে তৌসিফের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী ওয়ারী থানায় নতুন মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া কুশ চাষের আগের ল্যাব সংক্রান্ত মামলাতেও তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হবে বলে জানিয়েছে ডিএনসি।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo