উড়োজাহাজ কেনায় এখনই চুক্তি না করলে বিমানের সংকট হবে: পর্যটনমন্ত্রী

Published: November 1, 2026, 3:50 pm

রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর আধুনিকায়নে ৩৫টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এখনই ক্রয়চুক্তি সম্পন্ন করা না হলে আগামী কয়েক বছরে বিমানে বড় ধরনের উড়োজাহাজ সংকট দেখা দিতে পারে।

রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী। বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনার পাশাপাশি সব ধরনের কেনাকাটা ও প্রকল্প বাস্তবায়নে শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।

মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, নতুন উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি চূড়ান্ত করে বহরে যুক্ত করতে অন্তত ১০ বছর সময় লেগে যেতে পারে। এই সময়ের মধ্যে বিমানের বর্তমান বহরে থাকা উড়োজাহাজগুলো পর্যায়ক্রমে চলাচলের জন্য অনুপযোগী হয়ে পড়বে। ফলে এখনই প্রয়োজনীয় উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে সংস্থাটিতে তীব্র সংকট তৈরি হতে পারে।

উড়োজাহাজ ক্রয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনার বিষয়ে মন্ত্রী দাবি করেন, এসব উড়োজাহাজ কেনার জন্য সরকারকে সরাসরি কোনো অর্থ ব্যয় করতে হবে না। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স তাদের নিজস্ব আয় থেকেই পর্যায়ক্রমে এ অর্থ পরিশোধ করবে। এ ক্ষেত্রে সরকার কেবল গ্যারান্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।

বিগত দুই দশকের অব্যবস্থাপনার উল্লেখ করে পর্যটনমন্ত্রী বলেন, গত ২০ বছরে জবাবদিহির ধারাবাহিকতা না থাকায় পরিকল্পনাহীনভাবে বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। তবে বর্তমান সরকার সব ধরনের কেনাকাটায় শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে অঙ্গীকারবদ্ধ এবং এ ক্ষেত্রে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে অতীতে কেনা অপ্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও অন্যান্য সামগ্রীর বিষয়ে যথাযথ তদন্তের আশ্বাস দিয়ে যেকোনো দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রাখার ঘোষণা দেন তিনি। বৈঠকে স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh