সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার বন্ধে সাত দফা দাবি

Published: October 12, 2026, 11:01 am

সুন্দরবনের নদী ও খালে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার বন্ধ, জলজ প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং বননির্ভর মানুষের জীবিকা সুরক্ষার দাবিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় নবীন-প্রবীণরা। সোমবার (১২ অক্টোবর) সাতক্ষীরা রেঞ্জ কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে ‘বিষমুক্ত সুন্দরবন, নবীন-প্রবীণের আবেদন’ শীর্ষক এক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ‘বিষ দিয়ে মাছ ধরা বন্ধ করো, সুন্দরবনের প্রাণ রক্ষা করো’ স্লোগানকে সামনে রেখে গ্রীণ কোয়ালিশন, সংগঠিত জনসংগঠন, শ্যামনগর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবী এসোসিয়েশন, সুন্দরবন ইয়ুথ সলিডারিটি টিম, সিরিও এবং শরুব যৌথভাবে এই কর্মসূচির আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গ্রীণ কোয়ালিশন শ্যামনগর পৌরসভার সভাপতি কৃষ্ণানন্দ মুখার্জি। ‘বিষমুক্ত সুন্দরবন, নবীন-প্রবীণের আবেদন’ যৌথভাবে পাঠ করেন বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী লিমা আক্তার, মিস ঈশিতা ও মেহজাবিন সুলতানা।

আবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের নদী-খালে কীটনাশক ও বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহারের ফলে মাছের পোনা ও বিভিন্ন জলজ প্রাণী মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। এটি মাছের প্রজনন প্রক্রিয়া, খাদ্যশৃঙ্খল এবং সামগ্রিক জলজ বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট করছে। এছাড়া বিষাক্ত মাছ মানুষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হলে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে এবং মাছের প্রাকৃতিক মজুত কমে যাওয়ায় বৈধ জেলেরা দীর্ঘমেয়াদী জীবিকার সংকটে পড়ছেন।

সমস্যা মোকাবিলায় সাত দফা দাবি জানানো হয়, যার মধ্যে রয়েছে: বন বিভাগ, কমিউনিটি প্যাট্রলিং গ্রুপ (সিপিজি) ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে ঝুঁকিপূর্ণ খালে নিয়মিত টহল ও আকস্মিক অভিযান পরিচালনা; বিষ প্রয়োগে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ; বিষাক্ত রাসায়নিকের অবৈধ সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ; বিষ দিয়ে ধরা মাছের সংগ্রহ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণ বন্ধ করা; ঝুঁকিপূর্ণ খালের পানি ও জলজ প্রাণীর ওপর বিষের প্রভাব পর্যবেক্ষণ; জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে সমন্বিত সংরক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা। এছাড়া বননির্ভর জনগোষ্ঠী, জেলে, ব্যবসায়ী ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা এবং অভিযানের অগ্রগতি নিয়মিত প্রকাশের দাবি জানানো হয়।

কর্মসূচিতে সাতক্ষীরা গ্রীণ কোয়ালিশনের উপদেষ্টা সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম. বেলাল হোসেন, বন বিভাগের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তা মো. এরফান উদ্দীন, সাতক্ষীরা সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মাহমুদা খাতুন, বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আইয়ুব আলী, বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন গ্রীণ কোয়ালিশনের সভাপতি মো. মুহসিন বিল্লাহ, মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন গ্রীণ কোয়ালিশনের সভাপতি ডা. যোগেশ মন্ডল, ঈশ্বরীপুর ইউনিয়ন গ্রীণ কোয়ালিশনের গোবিন্দ মন্ডল, দাতিনাখালী বনজীবী নারী উন্নয়ন সংগঠনের সভানেত্রী শেফালী বিবি, বড়কুপট সবুজপাতা নারী সংগঠনের সভানেত্রী পারুল রানী বৈদ্য এবং বারসিক কর্মকর্তা মো. শাহীন ইসলাম ও রামকৃষ্ণ জোয়ারদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin