দেশের ব্যাংক ও রাজস্ব খাতসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের বিষয়ে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ)-এর মতো বহুপক্ষীয় সংস্থাগুলোর সঙ্গে সরকারের একধরনের সমঝোতা হয়েছে। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর সাংবাদিকদের কাছে এই তথ্য তুলে ধরেন। প্রথম আলো তাঁর এই কথোপকথনের রেকর্ড সংগ্রহ করেছে।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানান, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে বড় ধরনের সংস্কারের প্রতিশ্রুতি ছিল এবং জনগণের রায়ও এর পক্ষে রয়েছে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, সরকারের পঞ্চবার্ষিক অর্থনৈতিক কৌশলে সংস্কারের একটি রূপরেখা দেওয়া আছে, যা পুনরুদ্ধার, পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং সমৃদ্ধি—এই তিনটি ধাপে সাজানো হয়েছে। আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকও বাংলাদেশে নির্দিষ্ট কিছু সংস্কার চায়, যা সরকারের লক্ষ্য ও অভীষ্টের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
উপদেষ্টা আরও বলেন, জনগণ আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা, কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি এবং শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি চায়, যা বহুপক্ষীয় সংস্থাগুলোর চাহিদার সঙ্গে মিলে যায়। তাই সংস্কারের মালিকানা রাজনৈতিক সরকারই নেবে। সকালের বৈঠকে বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিরাও এই সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন এবং অর্থনীতির পুনর্গঠন ও কর্মসংস্থান তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
জ্বালানি তেলের বাড়তি খরচের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, এর দায় সরকারের ওপর বর্তায় না। মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে জ্বালানি তেলের পেছনে সরকারকে অতিরিক্ত ব্যয় করতে হচ্ছে। এ সময় তিনি আগের সরকারের সমালোচনা করে বলেন, পতিত সরকারের আমলে দেশে দারিদ্র্য বেড়েছে এবং দরিদ্র মানুষের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে।





