৬ বছর পর শুরু হলো পাগলা মসজিদের সোনা-রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রা গণনা

Published: October 12, 2026, 10:02 am

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে সংগৃহীত স্বর্ণালংকার, রুপা ও বিভিন্ন দেশের মুদ্রার শ্রেণিবিন্যাস, ওজন পরিমাপ এবং গণনার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দীর্ঘ ছয় বছর বিরতির পর সোমবার সকাল ১০টার দিকে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এই বিশেষ হিসাব নির্ধারণের কাজ শুরু করা হয়। জেলা প্রশাসনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে সংগৃহীত এসব মূল্যবান সামগ্রী আলাদা করে সুনির্দিষ্ট ওজন ও পরিমাণ নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে এসব দানের সঠিক হিসাব সংরক্ষণ ও পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

এর আগে গত ২৭ জুন দীর্ঘ ছয় মাস পর পাগলা মসজিদের ১৩টি দানবাক্স খোলা হয়েছিল। সে সময় দানবাক্সগুলো থেকে রেকর্ড ৪৩ বস্তা টাকা পাওয়া যায়। বিপুল পরিমাণ এই নগদ অর্থ গণনার কাজে জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ৫৯০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অংশ নিয়েছিল। নগদ টাকা ধাপে ধাপে গণনার সময়ই দানবাক্সগুলোতে থাকা বৈদেশিক মুদ্রা, সোনা, রুপা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী পৃথক করে রাখা হয়। নগদ টাকা গণনার প্রক্রিয়া শেষ হলেও এসব ধাতু ও বৈদেশিক মুদ্রার সঠিক পরিমাণ ও আর্থিক মূল্য নির্ধারণের জন্য আলাদা শ্রেণিবিন্যাস এবং ওজন মাপার প্রয়োজন দেখা দেয়। এরই অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে পুনরায় এই গণনার কাজ শুরু করা হলো। গণনার কাজ সম্পন্ন হলে এসব মূল্যবান সামগ্রীর মোট পরিমাণ ও বাজারমূল্য সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।

কিশোরগঞ্জ শহরের প্রবাহমান নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদটি বিপুল পরিমাণ দান-অনুদান প্রাপ্তির জন্য দেশজুড়ে বিশেষভাবে পরিচিত। প্রতিদিন দেশের দূর-দূরান্ত থেকে বহু ধর্মপ্রাণ মানুষ এখানে আসেন। তাদের একটি বড় অংশ নগদ টাকার পাশাপাশি সোনা-রুপার অলংকার এবং বিভিন্ন দেশের মুদ্রা দান বাক্সে জমা দেন। মূলত গভীর ধর্মীয় বিশ্বাস ও মানত পূরণের আশায় নানা বয়সী মানুষ এই মসজিদে দান করে থাকেন। রোগব্যাধি থেকে মুক্তি, সন্তান লাভ, উচ্চশিক্ষায় সাফল্য অর্জন ও পারিবারিক কল্যাণসহ নানা মানতের কারণে দীর্ঘকাল ধরে এই মসজিদে অনুদানের ধারাবাহিক প্রবাহ অব্যাহত রয়েছে।

নিয়মিত বিরতিতে মসজিদের দানবাক্স খোলা হলে প্রতিবারই বিপুল পরিমাণ অর্থ ও অলংকার পাওয়ার খবরে দেশজুড়ে ব্যাপক কৌতূহল ও আগ্রহের সৃষ্টি হয়। ছয় বছর পর পুনরায় সোনা, রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রার ওজন নির্ধারণ ও গণনার উদ্যোগ নেওয়ায় মসজিদটির দান-অনুদানের প্রকৃত পরিমাণ নিয়ে নতুন করে মানুষের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

সম্মেলনকক্ষে এই গণনা কার্যক্রম শুরুর সময় উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন, জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইশতিয়াক ইমন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জেসমিন আক্তার এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy