গ্রীষ্মের আগেই জাতীয় গ্রিডে যোগ হচ্ছে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ

Published: November 3, 2026, 6:08 am

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো- ২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষণা করেছেন যে, আসন্ন গ্রীষ্ম মৌসুম শুরুর আগেই জাতীয় গ্রিডে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করা সম্ভব হবে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই উদ্বোধনী পর্বে তিনি জানান, সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এই লক্ষ্য অর্জন করা যাবে।

সৌরবিদ্যুৎ খাতের গতি বাড়াতে সরকারের নানামুখী নীতিগত ও আর্থিক সহায়তার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সৌর বিদ্যুৎ সম্প্রসারণ ও প্রয়োজনীয় অর্থায়ন সহজ করার লক্ষ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উদ্যোক্তারা যেন শুধু পুঁজির অভাবে পিছিয়ে না পড়েন, সে জন্য ইতোমধ্যেই ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে শুল্ক সুবিধা, কর ছাড়সহ বিভিন্ন প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার। এ ছাড়া তরুণদের নতুন নতুন প্রযুক্তি ও ধারণা বিকাশে চলতি বাজেটে 'স্টার্ট আপ' খাতে প্রতি বছর ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অনুষ্ঠানে নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে তিন শতাধিক তরুণ উদ্যোক্তার উদ্ভাবনী আইডিয়া মূল্যায়নের মাধ্যমে সেরা বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হয়।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, বিগত সময়ে দেশকে অতিরিক্ত মাত্রায় আমদানি নির্ভর করে ফেলায় আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ শৃঙ্খল ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বিদ্যুৎ সংকট তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সহনীয় পর্যায়ে রাখতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ৪৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে সরকার। তিনি আরও জানান, বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে ডিজেলের মজুদ বাড়ানো হয়েছে, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতে বিকল্প আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং জ্বালানি তেল সংগ্রহের জন্য ইতিমধ্যেই ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

তারেক রহমান স্পষ্ট উল্লেখ করেন যে, অতীতের ব্যর্থতা নিয়ে তর্ক-বিতর্ক ও সমালোচনা করে সময় নষ্ট না করে বাড়িঘর ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের মূল অগ্রাধিকার। এই কৌশলের অংশ হিসেবে ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি দপ্তর, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানার অব্যবহৃত ছাদে সোলার প্যানেল বসানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে বাড়তি বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ১০ টাকা ৫০ পয়সা (প্রণোদনাসহ) দরে কিনে নেবে সরকার।

উদ্যোক্তাদের উদ্বুদ্ধ করতে নিজের বাসভবনে সোলার প্যানেল বসিয়ে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার নিজস্ব অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জনগণকে স্মরণ করিয়ে দেন, চাহিদামতো বিদ্যুৎ উৎপাদন সরকারের দায়িত্ব হলেও এর সাশ্রয়ী ব্যবহার করা নাগরিকদের দায়িত্ব। তাই দিনের বেলায় আলো-বাতাসের সঠিক ব্যবহার এবং অপ্রয়োজনে লাইট, ফ্যান কিংবা বৈদুতিক সরঞ্জাম বন্ধ রাখার পরামর্শ দেন তিনি। সরকার, বিনিয়োগকারী ও সাধারণ জনগণ একত্রে কাজ করলে সৌরবিদ্যুতের নির্ধারিত লক্ষ্যপূরণ করে একটি পরিবেশবান্ধব ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin