কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী তাজমিন হত্যা: অটোরিকশাচালক সুমন গ্রেপ্তার

Published: October 10, 2026, 5:47 am

কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনকে হত্যার ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। অটোরিকশাচালক সুমনই তাকে দিকভ্রান্ত করে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া এসব তথ্য জানিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাজমিন অটোরিকশাচালক সুমনকে কুমিল্লা রেসকোর্স নামিয়ে দেওয়ার জন্য ভাড়া করে। এ সময় চালকের মনে কুচিন্তার উদয় হয় এবং সে তাকে শহরের দিকে না নিয়ে বিজরার দিকে নিয়ে যায়। লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার নির্জন রাস্তায় নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করলে তাজমিন ও সুমনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। এক পর্যায়ে অটোরিকশাটি ধানখেতে পড়ে যায় এবং ভিকটিম দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলেও দুর্বলতার কারণে সুমন তাকে কাবু করে ফেলে।

জিজ্ঞাসাবাদে সুমন ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। ধর্ষণের পর গামছা দিয়ে শ্বাসরোধে তাজমিনকে হত্যা করে সে পাশের পুকুরে গোসল সেরে নেয়। যাওয়ার সময় ভিকটিমের ভ্যানেটি ব্যাগ থেকে আইফোনটি নিয়ে একটি ধানখেতে লুকিয়ে রাখে এবং পরে চট্টগ্রামে পালিয়ে যায়। পুলিশ ফেলে যাওয়া অটোরিকশার রেজিস্ট্রেশন নম্বর ধরে তদন্ত শুরু করে এবং ডিবি পুলিশ তাকে চট্টগ্রাম নগরী থেকে গ্রেপ্তার করে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া জানান, সুমন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার দায় স্বীকার করেছে এবং তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। সংবাদ সম্মেলনে লালমাই থানার ওসি মিজানুর রহমান, গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক পবিত্র সরকার ও অর্ণবসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, গত ৮ অক্টোবর সকালে লালমাইয়ের জগতপুর গ্রামের ধানখেত থেকে জান্নাতুল তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত তাজমিন যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়াতলা গ্রামের আব্দুল আলিমের মেয়ে এবং কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তন স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy