শহিদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগের চেতনাকে ধারণ করে সরকার একটি মানবিক, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শহিদ আবু সাঈদ গেট নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, রংপুরের সন্তান আবু সাঈদ স্বৈরাচারী সরকারের পেটোয়া বাহিনীর বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন এবং তিনি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের একজন পথিকৃৎ। তাঁর আত্মদান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় তৈরি করেছিল। এছাড়া সারা দেশের শিক্ষার্থী, তরুণ, বুদ্ধিজীবী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ত্যাগের মাধ্যমেই স্বৈরাচারের পতন ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এই গেট দেখে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাঁর আত্মত্যাগের তাৎপর্য উপলব্ধি করতে পারবে।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী মন্তব্য করেন যে, বড় প্রকল্প এক দিনে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এর জন্য নকশা ও জরিপসহ বিভিন্ন ধাপ অনুসরণ করতে হয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ২০২৭ সালে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করা সম্ভব হবে, যা রংপুরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে সহায়ক হবে।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে ছড়ানো বিভ্রান্তি প্রসঙ্গে তিনি জানান, সরকার এ লক্ষ্যে সংসদীয় কমিটি গঠন করেছে যেখানে বিরোধী পক্ষকেও রাখা হয়েছে। মতপার্থক্যগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে এবং ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন করা হবে।
রংপুরের উন্নয়নে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, সিটি করপোরেশনের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং কোনো অঞ্চলকে বৈষম্যের মধ্যে রাখা হবে না। রংপুরের কৃষি, শ্রম ও জমির সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া মাদক প্রতিরোধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলন গড়ার ওপর জোর দেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনবল সংকট নিরসনে শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদ সৃষ্টির প্রক্রিয়া চলছে বলে তিনি জানান। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান বাড়াতে এআই, রোবোটিকস, ডেটা সায়েন্স ও অটোমোবাইলের মতো আধুনিক বিষয় চালুর পরিকল্পনার কথা জানান। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও প্রশাসনের আলোচনার প্রেক্ষিতে আগামী তিন মাসের মধ্যে নতুন বিষয় চালু এবং আগামী দুই-তিন বছরের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক চেহারা পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন, উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলীসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।





