সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের ঘটনার নেপথ্যে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার এক যুবকের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। বলরামপুর গ্রামের বাসিন্দা সাহাবুদ্দিন শেখ সেখানে সাফাই কর্মী হিসেবে কাজ করতেন। আট বছর ধরে সৌদি আরবে থাকা সাহাবুদ্দিন ঘটনার দিন দুই বাংলাদেশি কর্মীর অসংলগ্ন আচরণের একটি ভিডিও ধারণ করেন। সাহাবুদ্দিনের মোবাইল ফোনে ভিডিওটি ধারণ করেছিলেন একজন পাকিস্তানি যুবক।
পরবর্তীতে সাহাবুদ্দিন সেই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপলোড করলে তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। পুলিশের তথ্য ও পরিবারের ভাষ্যমতে, স্রেফ মজা করার জন্য ভিডিওটি আপলোড করেছিলেন সাহাবুদ্দিন, যার পরিণতির কথা তিনি কল্পনাও করেননি। এই ঘটনার জেরে ২০২৩ সাল থেকেই তিনি সৌদি আরবের কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
কারাবন্দি সাহাবুদ্দিনের পরিবারের সদস্যরা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। সাহাবুদ্দিনের মা কোহিনুর বিবি ছেলের মুক্তির জন্য ভারত সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, তবে এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করা মতিউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে, এই ঘটনা এবং সৌদিতে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রেক্ষাপটে রিয়াদে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস প্রবাসী ভারতীয়দের জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করেছে। দূতাবাসের বিবৃতিতে বলা হয়, সৌদি আরবে বসবাসরত ভারতীয়রা যেন স্থানীয় আইন কঠোরভাবে মেনে চলেন। বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র কিংবা ড্রোন হামলার মতো ঘটনার ভিডিও রেকর্ড করা বা তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কারণ এগুলো আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।





