গণভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে রংপুরে জামায়াতের লংমার্চের সমাপ্তি

Published: September 19, 2026, 4:30 pm

গণভোটের গণরায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবিতে রাজপথে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে ১১ দলীয় ঐক্যজোট রংপুর মহানগর শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এক সমাপনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা-রংপুর লংমার্চ শেষে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান জুলাই আন্দোলনের শহীদদের অবদান স্মরণ করে বলেন, রংপুরের আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের কথা ভুলে যাওয়া শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করার শামিল। তিনি দাবি করেন, জনগণ তাদের ভোট দিলেও একটি দল সেই বিজয় ছিনতাই করেছে। ২০২৬ সালের সংসদ নির্বাচনে জনগণের ৬৯ শতাংশ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে বিষয়টি প্রমাণ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের দল ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ছিল। দেশের প্রতি ভালোবাসার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা দেশকে ভালোবাসি, তাই দেশ ছেড়ে পালাইনি। যারা দেশকে ভালোবাসে না, তারাই দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়। আমরা কারও ট্যাগ, হুমকি বা কোনো শক্তিকে ভয় পাই না; ভয় পাই কেবল আল্লাহ রাব্বুল আলামিনকে।’

উত্তরাঞ্চলের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি দায়িত্বশীল উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, ‘তিস্তা বাঁচলে মানুষ বাঁচবে।’ এ ধরনের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে সহযোগিতা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো কাজ বা সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে সংসদের ভেতরে ও বাইরে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। সরকার কতদিন ক্ষমতায় থাকবে, তা তাদের আচরণ ও কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করবে উল্লেখ করে তিনি সামাজিক বিভিন্ন খাতে সরকারি বরাদ্দ সঠিকভাবে ব্যবহার করে সৎ শাসনের উদাহরণ তৈরির আহ্বান জানান। এছাড়া নিজ নিজ এলাকায় ধর্ম, বর্ণ ও দলমত নির্বিশেষে সবার অধিকার সংরক্ষণ করার পাশাপাশি সমাজে নৈতিক ও চারিত্রিক উন্নয়ন, হারাম খাবার পরিহার এবং গিবত ও মিথ্যা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি ছিল। জিলা স্কুল মাঠে জায়গা না হওয়ায় আশপাশের সড়কেও মানুষের ঢল নামে, যার ফলে রংপুর নগরীর বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়। সভাপতির বক্তব্যে এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, জনগণের প্রতি সম্মান জানিয়ে অবিলম্বে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার এবং গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করতে হবে।

বিকেল ৫টায় মহানগর জামায়াতের তালিমুল কোরআন বিভাগের সভাপতি ও কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা শাহজাহান সিরাজের কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সমাপনী সমাবেশ শুরু হয়। সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় হুইপ মোহাম্মদ নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অলি আহমেদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আমির মাওলানা মামুনুল হক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ নেজামে ইসলামী পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির মাওলানা আব্দুল কাইউম সোবহানী, এনসিপির সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আখতার হোসেন এবং জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম খান এমপিসহ জোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।

এছাড়া সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আজাদ, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন, এনসিপির উত্তরাঞ্চল মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এবং এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রফেসর ওমর ফারুকসহ বিভিন্ন দলের নেতারা। এর আগে শনিবার সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চটি শুরু হয়েছিল এবং পথে বিভিন্ন স্থানে পথসভা শেষে রাতে রংপুরে এসে তা সমাপ্ত হয়।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh