নাইকো রিসোর্সেস (বাংলাদেশ) লিমিটেডের বিরুদ্ধে পেট্রোবাংলার করা ৭৪৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবির মামলাটি ছয় মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করার জন্য ঢাকার যুগ্ম জেলা আদালতকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে বিবাদীপক্ষকে তাদের সাক্ষীর লিখিত সাক্ষ্য দাখিল করার সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান ও বিচারপতি তামান্না রহমান খালিদীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ৩০ আগস্ট এই রায় প্রদান করেন। আট পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়টি গত সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
মামলাটির প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, সুনামগঞ্জের ছাতকের টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য ২০০৩ সালে নাইকোর কাছে হস্তান্তর করা হয়। ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি ও ২৪ জুন সেখানে দুটি বড় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এই অগ্নিকাণ্ডে গ্যাসক্ষেত্রের মজুত গ্যাস পুড়ে যায় এবং আশেপাশের স্থাপনা ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এই ক্ষতিপূরণের দাবিতে ২০০৮ সালে নাইকোর বিরুদ্ধে মামলা করে পেট্রোবাংলা। আইনজীবী সঞ্চিতা সিদ্দিকীর তথ্যমতে, বাংলাদেশ সরকার ও পেট্রোবাংলা বাদী হয়ে নাইকোর কাছে মোট ৭৪৬ কোটি ৫০ লাখ ৮৩ হাজার ৯৭৩ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে।
বিচারিক আদালতে কার্যক্রম চলাকালে ২০১৮ সালে বিবাদীপক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। এরপর বিবাদীপক্ষ ১১ বার সময় নেওয়ার পর ১২তম বার সময় চাইলে বাদীপক্ষ আপত্তি জানায়। আদালত তখন মামলাটি যুক্তিতর্কের জন্য দিন ধার্য করেন। ২০১৯ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ও ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার যুগ্ম জেলা আদালতের (দ্বিতীয় আদালত) দুটি আদেশের বিরুদ্ধে নাইকো হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করে। হাইকোর্ট তার রায়ে বিচারিক আদালতের ওই দুটি আদেশ বাতিল করে দিয়েছেন এবং বিবাদীপক্ষের সাক্ষীকে লিখিত সাক্ষ্য দাখিল ও জেরা বা পরীক্ষার জন্য হাজির হওয়ার সুযোগ দিয়ে আইন অনুযায়ী দ্রুত মামলাটি সম্পন্ন করতে বলেছেন।
হাইকোর্টের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এই আদেশ প্রাপ্তির ৩০ দিনের মধ্যে বিবাদীকে লিখিত সাক্ষ্য দাখিল ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে এবং পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে মামলাটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করতে হবে। মামলাটিতে পেট্রোবাংলার পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী সঞ্চিতা সিদ্দিকী ও জাহাঙ্গীর হোসেন এবং নাইকোর পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান।
হাইকোর্টের নির্দেশ অনুসারে এখন মামলাটি ছয় মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে।.নাইকোর কাছে ১২,৩৭১ কোটি টাকা চেয়ে ৫১২ কোটি পাচ্ছে বাংলাদেশ





