নওগাঁয় কলেজে যোগ দিতে গিয়ে হামলার শিকার বরখাস্ত অধ্যক্ষ

Published: September 20, 2026, 12:00 pm

নওগাঁর রানীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এবং আবাদপুকুর কলেজের বরখাস্ত অধ্যক্ষ জি এম মাসুদ রানা জুয়েল হামলার শিকার হয়েছেন। আদালতের নির্দেশে আজ রোববার দুপুরে কলেজে যোগ দিতে গেলে প্রতিষ্ঠানটির প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা এ সময় তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে এবং তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অধ্যক্ষ মাসুদ রানা কলেজে পৌঁছালে কিছু লোক তাকে প্রবেশের পথে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। সব বাধা উপেক্ষা করে তিনি তার কক্ষে প্রবেশ করেন এবং ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সালাহউদ্দিনের কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেন। দুপুর ১২টার দিকে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি দল তার কক্ষে ঢুকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এরপর তাকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে বের করে মারধর শুরু করলে একপর্যায়ে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং তাকে উদ্ধার করে নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা আবু জার গাফফার জানান, দুপুর ১টার দিকে তাকে হাসপাতালে আনা হয়। তার এক হাত ও দুই পায়ের হাড়ে ফ্র্যাকচার রয়েছে। বর্তমানে তিনি অর্থোপেডিক ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছেন।

অধ্যক্ষ মাসুদ রানা জানান, গত ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর কিছু লোক তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে লাঞ্ছিত করে কলেজ থেকে বের করে দিয়েছিল। পরবর্তীতে ব্যবস্থাপনা কমিটি তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে। তিনি এই বরখাস্ত আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট পিটিশন করলে আদালত তাকে চাকরিতে যোগদানের নির্দেশ দেন। তিনি এ ঘটনায় মামলা দায়ের করবেন বলে জানিয়েছেন।

কলেজ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অতীতে ডিগ্রি সেকশন খোলার নাম করে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অনেকের কাছ থেকে টাকা নিয়েও চাকরি দেননি এই অধ্যক্ষ। এছাড়া কলেজ তহবিলের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় গত ১৮ নভেম্বর তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছিল।

রানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি রাকিবুল হাসান জানান, তিনি ওসির সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তার ধারণা, চাকরিবঞ্চিত পাওনাদাররা বিক্ষুব্ধ হয়ে এ হামলা চালিয়ে থাকতে পারে। রানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া মণ্ডল জানান, এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি, তবে অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo