খুলনায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. আজমুল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। সোমবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে নগরের সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচি শুরু করেন। পরবর্তীতে নর্দার্ন ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির শিক্ষার্থীরাও তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন। শিক্ষার্থীদের এই অবস্থানের কারণে সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, তবে অ্যাম্বুলেন্স চলাচলের জন্য তারা রাস্তা খোলা রাখেন।
বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীরা ‘এক লোকমা ভাতের তরে মায়ের বুক খালি করে, আজমুল হত্যার বিচার চাই’ এবং ‘আমার ভাই মরল কেন, জবাব চাই’ লেখা সম্বলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন। নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শেখ তাশিক আহমেদ জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার এবং ৩০ দিনের মধ্যে অভিযোগপত্র দাখিলের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে বেলা দেড়টার দিকে শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি শেষ করেন।
নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কানাই লাল সরকার সমাবেশে অভিযোগ করেন, এটি কোনো একজনের কাজ নয়, বরং বহু শিক্ষার্থী মিলে দলগতভাবে আজমুলকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। তিনি জানান, আজমুলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে এবং ঘটনার ৬০ ঘণ্টা পার হলেও এখনো কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এদিকে হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন পৌনে একটার দিকে জানান, এ ঘটনায় চার শিক্ষার্থীসহ মোট ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিটি তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং নিরপরাধ কাউকে যাতে হয়রানি করা না হয়, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার রাতে চুরির অভিযোগ তুলে আজমুল হোসেনকে তার চারতলা মেস ভবনের ছাদে নিয়ে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তিনি ছাদ থেকে নিচে পড়ে গেলে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।





