সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের এমপি পদ নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বর্তমানে কমিশন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠির অপেক্ষায় রয়েছে। সোমবার নির্বাচন কমিশন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, আইন অনুযায়ী সংসদ সচিবালয় থেকে আনুষ্ঠানিক তথ্য বা চিঠি না পাওয়া পর্যন্ত কমিশনের পক্ষে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব নয়।
গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তারের পর তার সংসদ সদস্য পদ নিয়ে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে। গত রোববার সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় এমপি গাজী নজরুল ইসলাম এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার আদালত শুনানির পর গাজী নজরুল ইসলামকে চার দিন এবং মাকছুদা বেগমকে এক দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।
নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, মরিয়মের মৃত্যুর মামলার বিষয়টি আলাদাভাবে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী এ বিষয়ে আগেই চিঠি দিয়েছিল, কিন্তু আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে সংসদ সচিবালয় থেকে চিঠি না আসা পর্যন্ত কমিশন কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সংসদ নির্বাচন ও গেজেট প্রকাশ পর্যন্ত ইসির দায়িত্ব সীমাবদ্ধ। এরপর শপথ ও পরবর্তী বিষয়গুলো সম্পূর্ণ সংসদের এখতিয়ারভুক্ত।
এর আগে গত ২৩ জুলাই নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছিলেন, কোনো রাজনৈতিক দল কাউকে বহিষ্কার করলেই তার সংসদ সদস্য পদ সরাসরি শূন্য হওয়ার সুযোগ নেই। তবে দল থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলে বিষয়টি ভিন্ন হতে পারে। সেক্ষেত্রে স্পিকার বা জাতীয় সংসদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক রেফারেন্স বা চিঠি এলে সংবিধান ও আইন পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত ২০ জুলাই রাতে ঢাকার মগবাজারের একটি হোটেলে মরিয়মের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। শুরুতে জামায়াতের কেউ কেউ ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি বলে দাবি করলেও, পরে গাজী নজরুল ইসলাম ফেসবুক পোস্টে মরিয়মকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাংগঠনিক তদন্তে নৈতিক স্খলনের প্রমাণ পাওয়ায় ২২ জুলাই জামায়াতে ইসলামী তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে এবং বিষয়টি স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে চিঠির মাধ্যমে জানায়।





