মাদারীপুরে পচে যাওয়া ২২ হাজার মণ আলু গরুর খাবার হিসেবে বিতরণ

Published: September 20, 2026, 10:23 am

বেশি লাভের আশায় দীর্ঘ সময় হিমাগারে আলু সংরক্ষণ করে রাখায় মাদারীপুরে প্রায় ১৫ হাজার বস্তা আলু পচে নষ্ট হয়ে গেছে। ৬০ কেজি ওজনের এসব বস্তায় থাকা প্রায় ২২ হাজার ৫০০ মণ আলুর বর্তমান খুচরা বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা। নষ্ট হয়ে যাওয়া এসব আলু এখন স্থানীয় কৃষক ও খামারিদের মধ্যে বিনা মূল্যে গরুর খাবার হিসেবে বিতরণ করা হচ্ছে।

মাদারীপুর কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডের মালিক মীর হাবিবুর রহমান ২০২৫ সালের মার্চ মাসে এই আলুগুলো সংরক্ষণ করেছিলেন। হিমাগার কর্তৃপক্ষের সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, আলুর গুণগত মান ঠিক রাখতে সাধারণত সংরক্ষণ মৌসুম থেকে সর্বোচ্চ ১০ মাস পর্যন্ত কোল্ড স্টোরেজে রাখা হয়। তবে কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় মালিক ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত আলুগুলো স্টোরেজে ফেলে রাখেন। দীর্ঘ সময় সংরক্ষণের ফলে আলুর গুণগত মান নষ্ট হয়ে পচন ধরে এবং দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে।

মাদারীপুর কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাপক আবদুল করিম জানান, পচে যাওয়া আলু খোলা জায়গায় ফেলে দিলে জনদুর্ভোগের আশঙ্কা থাকে। তাই গত পাঁচ দিন ধরে স্থানীয় কৃষক ও খামারিদের মধ্যে এগুলো বিনা মূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে।

এদিকে বিপুল পরিমাণ আলু দীর্ঘদিন মজুত রাখার কারণে স্থানীয় বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে দাবি করছেন ব্যবসায়ীরা। মাদারীপুর কাঁচামাল আড়তদার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তাসুদ তালুকদার জানান, পচা আলু বিনা মূল্যে বিতরণ করায় বাজারে আলুর দাম কমে যাচ্ছে, যা সাধারণ ব্যবসায়ীদের ক্ষতির মুখে ফেলছে। পুরানবাজারের কাঁচামাল ব্যবসায়ী সরোয়ার হোসেনের মতে, এই আলুগুলো সময়মতো বাজারে ছাড়া হলে অন্য জেলা থেকে আলু সংগ্রহের প্রয়োজন কম হতো। তিনি আরও বলেন, যে পরিমাণ আলু নষ্ট হয়েছে, তা দিয়েই একটি মৌসুম ভালোভাবে চলে যেত।

অন্যদিকে মাদারীপুর জেলার কৃষি বিপণন কর্মকর্তা রুবেল মিয়া জানান, হিমাগারের মালিক ব্যক্তিগতভাবে আলু সংরক্ষণ করেছেন, তাই আলু নষ্ট হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই। তিনি দাবি করেন, পচা আলু বিনা মূল্যে বিতরণের কারণে খোলাবাজারে কোনো প্রভাব পড়েনি এবং স্থানীয় বাজারগুলোতে আলুর সরবরাহ ও দাম স্বাভাবিক রয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo