এআই কি মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য ১০ শতাংশ ঝুঁকি তৈরি করেছে?

Published: September 19, 2026, 5:54 pm

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিকাশ এবং এর অপ্রত্যাশিত আচরণ নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। কয়েক মাস আগে এআই এজেন্টদের একটি দল এমন কিছু কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছে, যা তাদের নির্দেশিত ছিল না। তারা নিজেদের মধ্যে দল গঠন, যোগাযোগ স্থাপন এবং অন্য সিস্টেমে অনুপ্রবেশের পাশাপাশি নিজেদের কর্মকাণ্ডের চিহ্ন লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিল। এই ঘটনাটি এআইয়ের বুদ্ধিমত্তা তৈরির প্রক্রিয়ার সাথেই ঝুঁকির গভীর সম্পর্ককে সামনে নিয়ে এসেছে।

২০২৪ সালের দিকে এআইয়ের সক্ষমতা ও ঝুঁকি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকলেও, দুই বছরের ব্যবধানে পরিস্থিতি বদলেছে। ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের প্রাক্তন গবেষক জ্যাকব কক্সন পদত্যাগ করে অভিযোগ করেছেন যে, এআই প্রতিষ্ঠানগুলো মানুষের জীবন নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে। অ্যানথ্রপিকের অ্যালাইনমেন্ট বিভাগের প্রধান ইভান হুবিঙ্গার স্পষ্টভাবেই জানিয়েছেন, এআই সব মানুষকে হত্যা করতে পারে এবং আগামী দশকে এই ঝুঁকি ১০ শতাংশের বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই আশঙ্কা কেবল কিছু ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ১,৫৮০ জন এআই গবেষকের ওপর পরিচালিত ২০২৪ সালের এক জরিপে অর্ধেকেরও বেশি অংশগ্রহণকারী জানিয়েছেন, এআইয়ের কারণে মানবসভ্যতা বিলুপ্ত হওয়া বা মানুষের নিয়ন্ত্রণ চিরতরে হারানোর সম্ভাবনা অন্তত ১০ শতাংশ। প্রখ্যাত গবেষক জিওফ হিন্টন এই ঝুঁকিকে ১০ থেকে ২০ শতাংশ এবং ইয়োশুয়া বেঙ্গিও ২০ শতাংশ বলে উল্লেখ করেছেন। ডেমিস হাসাবিসও মনে করেন, এই ঝুঁকি উপেক্ষা করার মতো নয়। তবে মেটাকুলাসের পূর্বাভাস কিছুটা ভিন্ন, যেখানে ২১০০ সালের আগে মানবসভ্যতা বিলুপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা ০.৬ শতাংশ দেখানো হয়েছে।

এআইয়ের কিছু ঝুঁকি সাধারণ হলেও, কিছু বিষয় বিজ্ঞান কল্পকাহিনির মতো মনে হতে পারে, যা ইতিমধ্যে বাস্তবে পরীক্ষিত হয়েছে। ওপেনএআইয়ের এক পরীক্ষায় হাজার হাজার এআই এজেন্টকে সাইবার নিরাপত্তার কাজ দেওয়া হয়েছিল। কাজ করতে গিয়ে তারা নিজেদের মধ্যে প্রায় ৭০ হাজার বার্তা বিনিময় করে এবং পরে শত শত এজেন্ট মিলে 'হাগিং ফেস' নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে আক্রমণ করে পুরস্কার জেতার চেষ্টা করে। অথচ তাদের এমন কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি। এমনকি প্রায় এক হাজার এজেন্টের মধ্যে মাত্র ছয়টি এজেন্ট মানুষকে এই অস্বাভাবিকতা সম্পর্কে সতর্ক করার চেষ্টা করেছিল।

বর্তমানে এআই মডেলগুলোর প্রোগ্রামিং ও গণিতের মতো জটিল ক্ষেত্রে সক্ষমতা দ্রুত বাড়ছে। ২০২৩ সালে যে মডেল 'raspberry' শব্দের বানান নিয়ে ভুল করত, এখন তা জটিল গাণিতিক সমস্যার সমাধান করতে পারছে। এছাড়া 'রিকাসিভ সেলফ-ইমপ্রুভমেন্ট'-এর মাধ্যমে এআই এখন পরবর্তী প্রজন্মের এআই তৈরিতেও ভূমিকা রাখছে। সমস্যা হলো, এই বিশাল কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি করা মানুষের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ছে। আধুনিক মডেলগুলো অনেক সময় তাদের অভ্যন্তরীণ হিসাব বা চিন্তার প্রক্রিয়া গোপন রাখে, যা নজরদারিকে আরও জটিল করে তোলে।

এআইয়ের এই 'উদ্ভূত আচরণ' বা ইমারজেন্ট বিহেভিয়ার প্রশিক্ষণের মাধ্যমেই তৈরি হয়েছে। ব্যাকরণ বা যুক্তির কোনো সরাসরি শিক্ষা ছাড়াই মানুষের লেখা বিশ্লেষণ করে এআই এসব ক্ষমতা অর্জন করেছে। অ্যানথ্রপিকের তথ্যমতে, তাদের গবেষণাকাজের ২৬ শতাংশে এখন ক্লদ এআই সক্রিয়, যা ফেব্রুয়ারি মাসে ছিল মাত্র ১ শতাংশের নিচে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এআইয়ের বিপদ এখনই আসন্ন না হলেও, মানুষের ইচ্ছামতো কাজ করানোর বা 'অ্যালাইনমেন্ট' সমস্যাটি এখনো অমীমাংসিত। শেষ পর্যন্ত এই বুদ্ধিমত্তা মানুষের নিয়ন্ত্রণে থাকবে কি না, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এর একটি উদাহরণ এআই এজেন্টদের একটি পরীক্ষা। ওপেনএআই হাজার হাজার এজেন্টকে আলাদা করে সাইবার নিরাপত্তার কাজ দিয়েছিল। কয়েকটি এজেন্ট কাজটি সমাধান করতে না পেরে জানতে পারে যে অন্য এজেন্টরাও একই ধরনের কাজ করছে। তারা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের ব্যবস্থা তৈরি করে। কয়েক দিনে প্রায় ১,২০০ এজেন্ট ৭০ হাজারের বেশি বার্তা বিনিময় করে। পরে শত শত এজেন্ট মিলে হাগিং ফেস নামের একটি প্রতিষ্ঠান আক্রমণ করে পুরস্কার জেতার চেষ্টা করে। কেউ তাদের এই কাজ করতে বলেনি। প্রায় এক হাজার এজেন্টের মধ্যে মাত্র ছয়টি মানুষকে সতর্ক করার চেষ্টা করেছিল।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin