তিন সপ্তাহের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক বিরতিতে তুরস্কের ফুটবল ক্লাব কনিয়াস্পোর আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ফিলিস্তিন জাতীয় দলকে। যুদ্ধবিগ্রহের ভেতরেও যারা ফুটবল পায়ে শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন, তাদের সম্মান জানাতে এবং গাজার করুণ পরিস্থিতির দিকে বিশ্ববাসীর নজর ফেরাতে এই প্রীতি ম্যাচের আয়োজন করা হয়। ম্যাচের প্রতিটি মুহূর্তেই ছিল ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতির ছাপ।
ম্যাচের শুরুতেই তুর্কি ক্লাবের সমর্থকেরা গ্যালারিতে এক বিশাল ব্যানার প্রদর্শন করেন, যেখানে লেখা ছিল—‘বাচ্চারা যখন ঘুমায়, তখন চুপ থাকো। যখন মারা যাচ্ছে তখন নয়।’ সমর্থকদের উষ্ণ অভিবাদনে মাঠে নামেন ফিলিস্তিনের খেলোয়াড়েরা। খেলার ১০ মিনিট ১৪ সেকেন্ডে প্রথমবারের মতো সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয় ম্যাচ। ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত প্রাণ হারানো ১ হাজার ১৪ জন ফিলিস্তিনি ক্রীড়াবিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ১০:১৪ মিনিটে এক মিনিটের জন্য খেলা থামিয়ে রাখা হয়।
মাঠের লড়াইয়ে দুই দলই প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলে এবং শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ২-২ গোলে সমতায় পৌঁছায়। শেষ মুহূর্তে স্বাগতিক কনিয়াস্পোর জয়সূচক গোলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল। বাঁ দিক থেকে বাড়ানো একটি ক্রস ফিলিস্তিনি ডিফেন্ডার কোনো মতে ক্লিয়ার করার পরপরই রেফারি বাজিয়ে দেন তার দীর্ঘ বাঁশি। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের ঠিক এক সেকেন্ড আগে, অর্থাৎ ৮৯ মিনিট ৫৯ সেকেন্ডে থামিয়ে দেওয়া হয় ম্যাচ।
ফুটবলে নির্ধারিত সময়ের আগেই খেলা শেষের বাঁশি বাঁজার ঘটনা একেবারেই নতুন নয়; যেমন আফ্রিকান কাপ অব নেশনসে (আফকন) ৮৫ মিনিটেও ম্যাচ শেষ করার নজির রয়েছে। তবে এই ম্যাচে বাঁশি বাজিয়ে খেলা শেষ করা হয়নি, বরং ম্যাচটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। রেফারির বাঁশির পর মাঠের বড় স্ক্রিনে ভেসে ওঠে বার্তা—‘এই ম্যাচ তত দিন পর্যন্ত স্থগিত, যত দিন না ফিলিস্তিনি মুক্ত হচ্ছে’।
ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী মানুষের প্রতি সংহতি জানানোর এই চিত্র শুধু তুরস্কের মাঠেই সীমাবদ্ধ ছিল না। আয়ারল্যান্ড ও ইসরায়েল ম্যাচের দিকে তাকালেও একই চিত্র দেখা যায়, যেখানে ইসরায়েলের বিপক্ষে দর্শকদের দুয়োধ্বনি দিতে দেখা গেছে। সেই ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের খেলোয়াড়েরা হাতে কালো ব্যান্ড পরে মাঠে নামেন এবং প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়দের সঙ্গে করমর্দন পর্যন্ত করেননি। গ্যালারিজুড়ে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগানের মাঝে আয়ারল্যান্ড ম্যাচটিতে ৩-০ গোলে জয় নিশ্চিত করে।





