ডারবানে প্রথম দিনে অস্ট্রেলিয়ার বিপর্যয় রুখলেন রেনশ ও কামিন্স

Published: October 9, 2026, 3:58 pm

২০১৮ সালের বহুল আলোচিত স্যান্ডপেপার কাণ্ডের পর এই প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলতে নেমেছে অস্ট্রেলিয়া। তিন ম্যাচের এই সিরিজ নিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের মাঝে বাড়তি উত্তেজনা থাকলেও ডারবানে প্রথম দিনটি বাধাগ্রস্ত হয়েছে আলোকস্বল্পতায়। প্রথম দিনে মাত্র ৬৫.২ ওভার খেলা সম্ভব হয়েছে। আগে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়া ৬ উইকেট হারিয়ে ১৮৭ রান সংগ্রহ করে দিন শেষ করেছে।

একপর্যায়ে মাত্র ১২৪ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছিল সফরকারীরা। তবে সেখান থেকে দলকে টেনে তোলেন ম্যাট রেনশ ও অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। সপ্তম উইকেটে এই দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ভর করে প্রথম দিনে আর কোনো উইকেট পড়তে দেয়নি অস্ট্রেলিয়া। দিন শেষে রেনশ ৪৬ ও অধিনায়ক কামিন্স ৩৩ রানে অপরাজিত আছেন। আজ দ্বিতীয় দিনে এই জুটি থেকেই আবার খেলা শুরু করবে তারা।

এর আগে দিনের শুরুতে সবাইকে অবাক করে দিয়ে ওপেনিংয়ে নামানো হয় নিক ম্যাডিনসনকে। দীর্ঘ ১০ বছর পর টেস্ট ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তন ঘটল এই বাঁহাতি ব্যাটারের, যিনি মাঝে ক্যানসারের মতো মরণব্যাধির সঙ্গে লড়াই করে জয়ী হয়েছেন। তবে ফেরার ম্যাচটি তাঁর জন্য একেবারেই সুখকর হয়নি। ৩৩ বল মোকাবিলা করেও রানের খাতা খুলতে পারেননি ম্যাডিনসন। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে ওপেনারদের মধ্যে এর চেয়ে বেশি বল খেলে শূন্য রানে আউট হওয়ার ঘটনা আছে মাত্র দুটি।

এই অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডের শীর্ষে আছেন নিউজিল্যান্ডের ড্যারিন মারে, যিনি ১৯৯৫ সালে ডানেডিন টেস্টে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩৯ বল খেলে শূন্য রানে আউট হয়েছিলেন। দ্বিতীয় স্থানে আছেন জিম্বাবুয়ের ওপেনার ট্রেভর গ্রিপার; ২০০০ সালে কিংস্টনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৩৬ বল খেলে কোনো রান না করেই বিদায় নিয়েছিলেন তিনি।

অস্ট্রেলিয়ার অন্য ব্যাটারদের মধ্যে ওপেনার ট্রাভিস হেড মাত্র ৯ রান করে সাজঘরে ফেরেন। এছাড়া মারনাস লাবুশেন ৩৭ ও স্টিভেন স্মিথ ২৫ রান করে আউট হন। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের মধ্যে দাপট দেখিয়েছেন পেসাররা। মার্কো ইয়ানসেন, উইয়ান মুল্ডার ও আনরিখ নর্কিয়া—এই তিন প্রোটিয়া পেসার প্রত্যেকেই ২টি করে উইকেট শিকার করেছেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্ট ম্যাচে ওপেনিংয়ে খেলা ম্যাট রেনশকে এই ম্যাচে নামানো হয় পাঁচ নম্বরে। অন্যদিকে, ক্যানসার জয় করে দীর্ঘ এক দশক পর দলে ফেরা ম্যাডিনসনকে দিয়ে ওপেন করানোর সিদ্ধান্তকে নির্বাচকদের এক প্রকার 'নিষ্ঠুর জুয়া' হিসেবেই দেখছেন অনেকে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo