আবুধাবিতে দুর্দান্ত শুরুর পর ব্যাটিং ধস, প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশ ৩১৭/৮

Published: October 9, 2026, 4:01 pm

আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের প্রথম দিনটি অদ্ভুত এক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে পার করল বাংলাদেশ। ম্যাচের প্রথম তিন ঘণ্টায় মাত্র ১ উইকেট হারিয়ে বড় সংগ্রহের ভিত গড়েছিল টাইগাররা। তবে এরপরই হুট করে মাত্র ৫ রানের ব্যবধানে ৩ উইকেট হারিয়ে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে দল। শেষ পর্যন্ত প্রথম দিন শেষে ৮ উইকেটে ৩১৭ রান সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ। ক্রিজে ১১ রানে নাঈম হাসান ও ৪ রানে তাইজুল ইসলাম অপরাজিত আছেন।

এদিন টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল দুর্দান্ত। উইকেটে বোলারদের জন্য তেমন কোনো সাহায্য ছিল না, আফগান বোলাররাও শুরুতে স্কিল দিয়ে কোনো ভীতি ছড়াতে পারেননি। প্রথম ঘণ্টায় আফগানদের জন্য একমাত্র সুযোগ ছিল সাদমান ইসলামের কাভারে তুলে দেওয়া ক্যাচ, যা লুফে নিতে পারেননি হাশমতউল্লাহ শহীদি। সাদমান একপ্রান্তে দেখেশুনে খেললেও অন্যপ্রান্তে বাউন্ডারির পর বাউন্ডারি মেরে তাণ্ডব চালান তানজিদ হাসান। ১০০-এর বেশি স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিং করে মাত্র ৪১ বলে ফিফটি তুলে নেন তিনি। তাঁর মারকুটে ব্যাটিং দেখে পেসার ইসমত আলীর বলে স্টাম্পের কাছে এসে কিপিং করার সিদ্ধান্ত নেন ইকরাম আলীখিল। এরপরই ইসমতের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে খোঁচা মেরে বসেন তানজিদ। ৭১ বলে ৮টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৮৩ রান করে তানজিদ বিদায় নিলে ভাঙে ১২৪ রানের উদ্বোধনী জুটি। এই ইনিংসে বাংলাদেশের দ্রুততম টেস্ট সেঞ্চুরি (৯৪ বল) কিংবা প্রথম দিনের প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরির দারুণ রেকর্ড গড়ার সুযোগ ছিল তাঁর সামনে।

তানজিদের বিদায়ের পর ওপেনার সাদমান ইসলামও নিজের হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। মোহাম্মদ সেলিমের বলে ৬৭ রান করে সাদমান যখন সাজঘরে ফেরেন, তখনও দলের অবস্থান বেশ ভালো ছিল। কিন্তু দ্বিতীয় সেশনের শেষ দিকে এসে আচমকাই ধস নামে বাংলাদেশ শিবিরে। গড়ে ১৩০ কিলোমিটারের কম গতিতে বল করা আফগান পেসারদের সামনে একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ। শুরুটা হয় মুমিনুল হককে দিয়ে, যিনি ইয়ামিন আহমেদজাইয়ের বলে সহজ ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন। পরের ওভারেই কোনো রান না করে (৭ বলে ০) সাজঘরে ফেরেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম। ইয়ামিনের ধীরগতির ইয়র্কারে পরাস্ত হন তিনি। এই জোড়া ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই কায়েস আহমেদের লেগ স্পিনে পরাস্ত হয়ে স্লিপে ক্যাচ দেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ফলে ২২১ রানে ২ উইকেট থেকে চোখের পলকে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ২২৫ রানে ৫ উইকেট।

এই বিপর্যয় থেকে দলকে টেনে তোলার দায়িত্ব নেন শেষ স্বীকৃত জুটি লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজ। ষষ্ঠ উইকেটে তাঁদের ৬২ রানের জুটিটি আশা জাগালেও ইসমত আলীর বল স্টাম্পে টেনে এনে বোল্ড হন মিরাজ। মিরাজের বিদায়ের পর লিটনের রান তোলার গতি হঠাৎ কমে যায়। ফিফটির আগের ৪ রান করতে তিনি খেলেন ১৩টি বল। টানা তিন ইনিংসে শূন্য রানে আউট হওয়ার পর আজ প্রথম রান নিয়ে এবং পরে ফিফটি পূর্ণ করার পর ব্যাট উঁচিয়ে ধরেন লিটন। তবে হাফ সেঞ্চুরি পেরিয়েই মোহাম্মদ সেলিমের বলে হুক করতে গিয়ে ডিপ স্কয়ার লেগে ইয়ামিন আহমেদজাইয়ের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। আউট হওয়ার আগে করেন ৫৩ রান। লিটন যখন আউট হন, বাংলাদেশ ততক্ষণে ৩০০ রান পার করেছে। দিনের শেষ ভাগে হাসান মাহমুদও সাজঘরে ফিরে গেলে বাংলাদেশের বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা আরও সংকুচিত হয়ে পড়ে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo