বিশ্বসেরা গবেষকদের তালিকায় বেরোবির ৩ শিক্ষক ও ১ শিক্ষার্থী

Published: October 8, 2026, 4:47 pm

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) তিন শিক্ষক ও এক শিক্ষার্থী বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানী ও গবেষকের তালিকায় স্থান লাভ করেছেন। আন্তর্জাতিকভাবে মর্যাদাপূর্ণ এই তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন গবেষক স্থান পাওয়ায় বেরোবির গবেষণা কার্যক্রমে এক নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং নেদারল্যান্ডসভিত্তিক বিশ্বখ্যাত প্রকাশনা সংস্থা এলসেভিয়ার যৌথভাবে এই গবেষণা ও জরিপ পরিচালনা করে। এর ভিত্তিতেই ২০২৬ সালের বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানী ও গবেষকের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

এই তালিকায় স্থান পাওয়া বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা হলেন—ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান, একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. হাসান আলী এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু রেজা মো. তৌফিকুল ইসলাম। এছাড়া একই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে স্থান পেয়েছেন শিক্ষার্থী অভিজিৎ ঘোষ। তালিকায় স্থান পাওয়া অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

এই মর্যাদাপূর্ণ তালিকায় ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত টানা পঞ্চমবারের মতো স্থান পেয়েছেন অধ্যাপক ড. আবু রেজা মো. তৌফিকুল ইসলাম। নিজের এই ধারাবাহিক সাফল্যে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানী তালিকা ২০২৬-এ অন্তর্ভুক্ত হতে পেরে মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। এই মর্যাদাপূর্ণ তালিকায় ধারাবাহিকভাবে পঞ্চমবার (২০২২–২০২৬) স্থান পাওয়া আমার গবেষণা জীবনের এক অনন্য স্বীকৃতি।” তিনি এই অর্জন তাঁর পরিবার, সহ-গবেষক, শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও সকল সহযোগীদের প্রতি উৎসর্গ করে জানান, তাঁদের অবদান ও অনুপ্রেরণাই তাঁর গবেষণা যাত্রার মূল শক্তি এবং সমাজের কল্যাণে তাঁর এই পথচলা অব্যাহত থাকবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ও তালিকায় স্থান পাওয়া অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান এই অর্জনকে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয় বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “আমরা তিনজন শিক্ষক ও একজন শিক্ষার্থী এ তালিকায় স্থান পেয়েছি। ভবিষ্যতে এ সংখ্যা আরও বাড়বে। গবেষণায় বিশ্ববিদ্যালয় আরও এগিয়ে যাবে। এ ধরনের অর্জন শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং এটি পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যই গর্বের বিষয়।”

বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বেরোবির গবেষণার পরিধি ও মান বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এর ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচিতি ও গবেষণা সক্ষমতা আরও বেশি দৃশ্যমান হবে, যা অন্যান্য গবেষকদেরও উদ্বুদ্ধ করবে এবং ক্যাম্পাসে গবেষণাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক হবে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh