মাঠে সংঘর্ষের পর হাসপাতালে প্রাণ হারালেন স্প্যানিশ ফুটবলার হেসুস দে মিগেল

Published: November 4, 2026, 2:11 pm

স্পেনীয় ফুটবলে নেমে এসেছে গভীর শোক ও তীব্র চাঞ্চল্য। মাঠে প্রতিপক্ষ গোলকিপারের চ্যালেঞ্জ থামাতে গিয়ে গুরুতর আহত হওয়া টেনেরিফের ফরোয়ার্ড হেসুস দে মিগেল আর নেই। হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকাল ৮টায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন ৩০ বছর বয়সি এই ফুটবলার। মৃত্যুর আগে তিনি রেখে গেছেন স্ত্রী ও এক কন্যাসন্তানকে। এই মর্মান্তিক পরিণতির পর স্প্যানিশ ফুটবলে শোকের পাশাপাশি গোলকিপারের ওই চ্যালেঞ্জ কতটা নিয়মসিদ্ধ ছিল, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে।

ঘটনাটি ঘটে গত ২ নভেম্বর স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগের লিগে টেনেরিফের ঘরের মাঠে এফসি আন্দোরার বিপক্ষে ম্যাচে। তখন খেলা গড়িয়েছিল অতিরিক্ত সময়ে এবং স্কোরবোর্ডে সমতা ছিল ২-২ গোলে। বল ক্লিয়ার করতে আন্দোরার গোলকিপার হেসুস ওনো নিজ বক্স ছেড়ে অনেকটাই সামনে চলে আসেন। শূন্যে লাফিয়ে বল সরাতে গিয়ে ওনোর হাঁটু সরাসরি আঘাত করে ছুটে আসা দে মিগেলের বুকে। মুহূর্তের মধ্যেই মাঠে লুটিয়ে পড়েন টেনেরিফের এই আক্রমণভাগের খেলোয়াড়।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝে দুই দলের ফুটবলাররাই দ্রুত চিকিৎসকদের মাঠে ডাকার আকুতি জানান। মাঠের মধ্যেই প্রায় পাঁচ মিনিটের বেশি সময় ধরে দে মিগেলকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার হৃৎস্পন্দন বন্ধ হয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকদের টানা ‘পুনরুজ্জীবন’ প্রচেষ্টায় তার হৃৎস্পন্দন ফিরিয়ে আনা সম্ভব হলেও আর জ্ঞান ফেরেনি। এরপর সান্তা ক্রুসের একটি হাসপাতালের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল তাকে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তার মৃত্যু হয়।

অনাকাঙ্ক্ষিত ওই সংঘর্ষের পরই আন্দোরার গোলকিপার হেসুস ওনোকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান মাঠের রেফারি এবং ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। ম্যাচের অফিসিয়াল প্রতিবেদনে রেফারি উল্লেখ করেন, বলের দখল নিতে গিয়ে ওনো অতিরিক্ত উঁচুতে পা তুলে অপ্রয়োজনীয় বল প্রয়োগ করেছিলেন। তবে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে প্রতিপক্ষকে আঘাত করেছেন—এমন কোনো ইঙ্গিত প্রতিবেদনে দেননি রেফারি। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে ওনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র বর্ণবাদী গালিগালাজ ও আক্রমণের শিকার হয়েছেন।

এই দুর্ঘটনার পর স্পেনের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিচারিক তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছে, যেখানে সম্ভাব্য অনিচ্ছাকৃত মৃত্যুর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অবশ্য সান্তা ক্রুসের প্রধান সরকারি কৌঁসুলি হোসে লুইস সানচেজ-হাউরেগি সংবাদ সংস্থা ইএফইকে নিশ্চিত করেছেন যে, খেলা চলাকালীন কোনো স্বাভাবিক বা অস্বাভাবিক দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে বিচারিক অনুসন্ধান স্প্যানিশ আইনের একটি নিয়মমাফিজ প্রক্রিয়া। ফলে তদন্তের মুখোমুখি হওয়া মানেই গোলকিপারকে অপরাধী হিসেবে গণ্য করা নয়। ম্যাচের ভিডিও ফুটেজ ও রেফারির চূড়ান্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বোঝা যাবে এটি ফুটবলের স্বাভাবিক নিয়মের বাইরে ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ ছিল কিনা। একইসঙ্গে তিনি জানান, মাঠের খেলার সংঘর্ষে ফৌজদারি মামলা হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

এই করুণ বিদায়ে পুরো ইউরোপীয় ফুটবলে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। আন্দোরার মালিক তথা বার্সেলোনার সাবেক তারকা ফুটবলার জেরার্ড পিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘হৃদয়ের গভীর থেকে সমবেদনা জানাচ্ছি। শান্তিতে ঘুমাও হেসুস।’ আন্দোরা ক্লাবের পক্ষ থেকেও দে মিগেলের পরিবার, সহখেলোয়াড় ও টেনেরিফ সমর্থকদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনাসহ বিভিন্ন ক্লাব একাত্মতা প্রকাশ করেছে। এই ট্র্যাজেডির স্মরণে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন মঙ্গলবারের কোপা দেল রে ও কোপা দে লা রেইনার সব ম্যাচ স্থগিত করেছে এবং উয়েফা চলতি সপ্তাহের নিজেদের সব প্রতিযোগিতায় এক মিনিট নীরবতা পালনের নির্দেশ দিয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh