অবৈধ অভিবাসনে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Published: October 12, 2026, 12:05 pm

অবৈধ অভিবাসন এবং মানবপাচার রোধে বাংলাদেশ সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) স্বরাষ্ট্র ও অভিবাসনবিষয়ক কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনারের নেতৃত্বে আসা একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সাথে বৈঠকের পর তিনি এ কথা জানান।

বৈঠকে অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার প্রতিরোধ, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, বৈধ উপায়ে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি এবং রোহিঙ্গা সংকট নিরসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ পথে মানবপাচার রোধ এবং অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সুরক্ষায় বাংলাদেশ ইইউর সাথে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আরও জানান, অবৈধ অভিবাসন শূন্যের কোঠায় নামিয়ে এনে ইউরোপের বাজারে দক্ষ কর্মী পাঠানোর সুযোগ তৈরি করাই সরকারের লক্ষ্য।

ইইউ কমিশনার বাংলাদেশের সাথে কৌশলগত অংশীদারত্ব ও সহযোগিতার প্রশংসা করে জানান, অবৈধ অভিবাসন পথ পুরোপুরি বন্ধ করা এবং মানবপাচার প্রতিরোধ উভয়পক্ষের জন্যই অগ্রাধিকার। তার মতে, অবৈধ অভিবাসন হ্রাস পেলে বৈধ উপায়ে বাংলাদেশি কর্মীদের ইউরোপের শ্রমবাজারে প্রবেশ সহজতর হবে। বৈঠকে ‘ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ’ প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশি কর্মীদের আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ও সার্টিফিকেশনের বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রায় ৭৫০ জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীর ইউরোপীয় সার্টিফিকেশন সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে ইইউভুক্ত দেশের প্রশিক্ষণ বিশেষজ্ঞদের বাংলাদেশে এসে সরাসরি প্রশিক্ষণ ও সনদ প্রদানের আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে ইইউ প্রতিনিধিদল ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, দেশের বিমান, সমুদ্র ও স্থলবন্দরে ট্রাফিক মনিটরিং এবং অপরাধী চিহ্নিতকরণের লক্ষ্যে এ বছরের শেষ নাগাদ ‘অ্যাডভান্সড প্যাসেঞ্জার ইনফরমেশন অ্যান্ড বর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ কার্যকর করা হবে, যা ইন্টারপোল ডেটাবেজের সাথে সংযুক্ত থাকবে। এছাড়া ইউরোপিয়ান বর্ডার অ্যান্ড কোস্ট গার্ড এজেন্সির (এফআরওএনটিইএক্স) সাথে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সরাসরি প্রাতিষ্ঠানিক সমঝোতা স্থাপনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে, যা সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অনিয়ন্ত্রিত জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার কারণে এই সংকট এখন কেবল বাংলাদেশের জন্য নয়, বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ও আরাকান আর্মির ওপর কার্যকর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির জন্য তিনি ইইউর সহযোগিতা কামনা করেন। ইইউ প্রতিনিধিদল এ বিষয়ে যৌথ কূটনৈতিক প্রচেষ্টার আশ্বাস দিয়েছে। বৈঠকে ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, ডিরেক্টর হেনরিক নিলসেন, ক্যাবিনেট সদস্য গ্রিগোরিওস ডেলাভেকোরাস, ডেপুটি হেড অব মিশন বাইবা জারিনা এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদসহ উভয় পক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy