বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারকে ইঙ্গিত করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খানের দেওয়া এক বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে দলটি। জামায়াত এই বক্তব্যকে কাল্পনিক ও ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে এর সপক্ষে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ চেয়েছে। প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হলে ডিএনসিসি প্রশাসককে বক্তব্য প্রত্যাহার করে জনসমক্ষে দুঃখ প্রকাশ করার দাবি জানিয়েছে তারা।
শুক্রবার বিকেলে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ জানান। ‘ডিএনসিসি প্রশাসকের দায়িত্বহীন ও ভিত্তিহীন বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ’ শীর্ষক ওই বিবৃতিতে বলা হয়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন কর্তৃক একটি রাজনৈতিক দলের সেক্রেটারি জেনারেলের ৭০০টি অটোরিকশা থাকার বিষয়ে দেওয়া বক্তব্য তাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। শুক্রবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে তাঁর এ বক্তব্যের মাধ্যমে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারকে ইঙ্গিত করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। বিবৃতিতে এই ধরনের কাল্পনিক, অসত্য, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট তথ্য পরিবেশনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।
এর আগে শুক্রবার সকালে রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে ঢাকা উত্তর সিটির ‘জুলাই গ্রাফিতি রিমেক’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। সেখানে তিনি বলেন, অটোরিকশা আন্দোলনের নামে সেদিন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের দেখা গিয়েছিল। বাংলাদেশের একজন মানুষও অটোরিকশার পক্ষে আন্দোলন করবে না। একটি বড় রাজনৈতিক দলের সাধারণ সম্পাদক অটোরিকশাচালকদের দাবি সরকারকে মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যা অত্যন্ত হাস্যকর বক্তব্য। পরে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ওই নেতার নাকি ৭০০টি অটোরিকশা আছে। শফিকুল ইসলাম আরও মন্তব্য করেন, এভাবে জনগণের কাছে বারবার খোলস বদলে পার পাওয়া যাবে না।
ডিএনসিসি প্রশাসকের এই বক্তব্যের সমালোচনা করে জামায়াত নেতা এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বিবৃতিতে বলেন, ডিএনসিসি প্রশাসকের কাছ থেকে জনগণ দায়িত্বশীল, তথ্যনির্ভর ও শালীন বক্তব্য প্রত্যাশা করে। কোনো রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাকে ইঙ্গিত করে তাঁর ব্যক্তিগত মালিকানায় ৭০০টি অটোরিকশা থাকার মতো গুরুতর অভিযোগ তোলার আগে এর সুনির্দিষ্ট ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা অপরিহার্য ছিল। গ্রহণযোগ্য প্রমাণ জনসমক্ষে উপস্থাপন না করে এমন মন্তব্য করা দায়িত্বশীল আচরণের পরিচায়ক নয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অটোরিকশা চলাচল, যানজট নিরসন, সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং চালকদের জীবিকা-সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলো বাস্তবতা ও জনস্বার্থের আলোকে বিবেচনা করা প্রয়োজন। এসব বিষয়ে কোনো রাজনৈতিক দলের বক্তব্য বা অবস্থানকে খণ্ডন করতে হলে যুক্তি, তথ্য ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপের মাধ্যমে তা করা উচিত; কোনো নেতার বিরুদ্ধে প্রমাণহীন অভিযোগ তুলে নয়। ডিএনসিসি প্রশাসককে তাঁর বক্তব্যের সপক্ষে সুনির্দিষ্ট ও যাচাইযোগ্য প্রমাণ জনসমক্ষে উপস্থাপন করার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, যদি তিনি প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হন, তবে বক্তব্য প্রত্যাহার করে জনসমক্ষে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে।
উল্লেখ্য, গত ৫ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা-কুষ্টিয়া অভিমুখে অনুষ্ঠিত লংমার্চ উপলক্ষে ১১ দলের লিয়াজোঁ কমিটির প্রস্তুতি সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছিলেন, অটোরিকশা চালকদের যে দাবি, তা সরকারের মেনে নেওয়া উচিত এবং দেশে যেন অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি না হয় বা কেউ উসকানি দেওয়ার সুযোগ না পায়—এমন পরিস্থিতি কারও সৃষ্টি করা উচিত নয়। ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান তাঁর বক্তব্যে সরাসরি কারও নাম উল্লেখ না করলেও গত কয়েক দিন ধরে টেলিভিশনের বিভিন্ন টক শোতে জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেলের ৭০০টি অটোরিকশা আছে বলে অনেকে দাবি করেছেন।





