আলোচনা ব্যর্থ, ইসলামাবাদ অভিমুখে লংমার্চে ইমরান খানের দল

Published: October 4, 2026, 5:15 pm

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) তাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ইসলামাবাদ অভিমুখে লংমার্চ শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে। সরকারের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে চলা আলোচনায় কোনো সমঝোতা না হওয়ায় তারা এই কঠোর অবস্থানে অটল থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

শনিবার বিকেল ৪টা থেকে পার্লামেন্ট ভবনে সরকার ও পিটিআইয়ের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। প্রায় ১১ ঘণ্টা ধরে চলা এই বৈঠক রোববার দিবাগত রাত ৩টার দিকে শেষ হলেও কোনো অগ্রগতি হয়নি। বিরোধীদলীয় সিনেট নেতা আল্লামা রাজা নাসির আব্বাস জানিয়েছেন, বৈঠকে কোনো সমঝোতা হয়নি এবং ইমরান খানের সঙ্গে পিটিআই প্রতিনিধিদের সাক্ষাতের বিষয়টিও অমীমাংসিত রয়ে গেছে।

সরকারের পক্ষের আলোচক ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী দাবি করেছেন, খাইবার পাখতুনখাওয়া সরকার সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে ভবিষ্যতে সহযোগিতার নিশ্চয়তা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় এই আলোচনা ভেস্তে গেছে। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে শর্ত দেওয়া হয়েছিল যে, আলোচনা বা রাজনৈতিক ছাড় পাওয়ার আগে পিটিআইকে লংমার্চ কর্মসূচি প্রত্যাহার করতে হবে। কিন্তু পিটিআইয়ের দাবি, দলীয় প্রতিনিধিদের ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ না দেওয়া পর্যন্ত তারা কর্মসূচি প্রত্যাহার করবে না।

খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদি জানিয়েছেন, আজ লাক্কি মারওয়াতের গান্দি চৌক থেকে এই লংমার্চ শুরু হবে। মিছিলটি ট্যাংক, ডেরা ইসমাইল খান, বান্নু, কারাক, কোহাট, পেশোয়ার ও চারসাদ্দা হয়ে ৮ অক্টোবর খাইরাবাদে পৌঁছাবে, যেখানে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বরের নির্ধারিত কর্মসূচিটি পিছিয়ে ৪ অক্টোবর করা হয়েছিল।

লংমার্চকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিক্ষোভ ঠেকাতে কর্তৃপক্ষ হাজার হাজার পুলিশ মোতায়েন করেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলো বন্ধ করে দিয়েছে। পিটিআইয়ের অনেক নেতা ও মন্ত্রীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে এবং গত সপ্তাহে ইমরান খানের তিন বোনকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এমনকি সোহাইল আফ্রিদির বিরুদ্ধেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।

সোহাইল আফ্রিদি অভিযোগ করেছেন, সরকার ইসলামাবাদ অবরুদ্ধ করে পিটিআইয়ের কর্মসূচি ঠেকানোর চেষ্টা করছে। তবে তিনি দাবি করেন, ইমরান খানের সমর্থনে মানুষ রাস্তায় নেমে আসবে। বিপুল নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে পিটিআই সমর্থকদের সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা অতীতে বিভিন্ন বিক্ষোভেও দেখা গেছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin