কারাবন্দি দলীয় প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে রবিবার ইসলামাবাদ অভিমুখে লং মার্চ শুরু করেছে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। খাইবার পাখতুনখাওয়া (কেপি) প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদি লাকি মারওয়াতের গান্ডি চকে এই মার্চের উদ্বোধন করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কেপি’র মানুষের স্বার্থের বিরুদ্ধে কোনো নীতি দল মেনে নেবে না। পেশোয়ার-করাচি ইন্ডাস হাইওয়ের গান্ডি চক থেকে শুরু হওয়া এই মার্চে হাজার হাজার মানুষ অংশ নিয়েছেন।
সোহাইল আফ্রিদি হেলিকপ্টারে করে লাকি মারওয়াতে পৌঁছান এবং উপস্থিত জনতাকে পাকিস্তানের প্রকৃত মালিক হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করার ডাক দেন। তিনি অভিযোগ করেন, পিটিআইয়ের আলোচনাকারী দল রাজনৈতিক উত্তাপ কমাতে ইসলামাবাদে গেলেও আড়ালে থাকা সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী মহল সেই আলোচনা ভেস্তে দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, কেপিতে শুধু ইমরান খানের দর্শন ও নীতিই চলবে। তিনি ঘোষণা করেন, তারা ইমরান খানের সৈনিক এবং কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করবেন না। সন্ত্রাস দমনের বর্তমান নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি দাবি করেন, ইমরান খানের সরকারের সময় নীতি সঠিক ছিল বলেই শান্তি বজায় ছিল। তার দাবি, ইমরান খানের নীতি চালু হলে ১০০ দিনের মধ্যে শান্তি ফিরবে।
এদিকে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে প্রাদেশিক সরকারের হেলিকপ্টার ব্যবহারের তীব্র সমালোচনা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার অভিযোগ করেছেন, এটি ইসলামাবাদ হাইকোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশের লঙ্ঘন, যেখানে কোনো রাজনৈতিক মিছিলে সরকারি সম্পদ বা যন্ত্রপাতি ব্যবহার না করার জন্য প্রাদেশিক সরকারগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তথ্যমন্ত্রী কটাক্ষ করে বলেন, প্রদেশে সন্ত্রাসবাদ বাড়ছে, আর মুখ্যমন্ত্রী যেন ‘নিরো সম্রাটের মতো বাঁশি বাজাচ্ছেন’। কেপির গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দিও হেলিকপ্টার ব্যবহারের সমালোচনা করে এটিকে আদালত অবমাননার শামিল বলে মন্তব্য করেছেন।
এর আগে সাবেক কেপি মুখ্যমন্ত্রী আলী আমিন গান্ডাপুরের নেতৃত্বে ডেরা ইসমাইল খান থেকে পিটিআই কর্মীরা লাকি মারওয়াতের উদ্দেশে রওনা হন। গান্ডাপুর জানান, কাফেলা ইয়ারিক ও পেজু হয়ে গান্ডি চকে পৌঁছাবে। তিনি কর্মীদের শান্ত থাকতে, শৃঙ্খলা মানতে এবং সহিংসতা, ভাঙচুর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘাত এড়িয়ে চলতে নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, যারা রাস্তা অবরোধ করেন বা সংঘর্ষে জড়ান, তারা পিটিআইয়ের কর্মী নন। এই মার্চকে তিনি দলের রাজনৈতিক সংগ্রামের ধারাবাহিকতা এবং ইমরান খানের প্রতি আনুগত্যের নতুন প্রতিজ্ঞা বলে বর্ণনা করেন।
মার্চের সূচি অনুযায়ী ৪ অক্টোবর থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন জেলা থেকে কর্মীরা যুক্ত হবেন। ৪ অক্টোবর গান্ডি চক থেকে শুরু হয়ে কাফেলা কারাক্রের কাছে থামবে। ৫ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টায় রওনা দিয়ে রাতে কোহাটের কাছে বিশ্রাম নেওয়া হবে। ৬ অক্টোবর কোহাট, হাঙ্গু, কুররাম ও ওরাকজাইয়ের মানুষ যোগ দেবেন এবং কাফেলা মাত্তানির কাছে রাত কাটাবে। ৭ অক্টোবর বিকেলে পেশোয়ারের বুধ বেয়ার থেকে রওনা হয়ে চারসাদ্দা ইন্টারচেঞ্জের কাছে রাত কাটবে। ৮ অক্টোবর চারসাদ্দা ও মোহমন্দের মানুষ যোগ দেওয়ার পর খাইবারাবাদে পুরো কেপি’র মানুষ জড়ো হবে। এরপর পরবর্তী পরিকল্পনা ঘোষণা করা হবে। এর আগে কেপির বিভিন্ন জেলায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা ও জনসুরক্ষার কারণ দেখিয়ে নির্দিষ্ট পথে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জরুরি সেবার ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য নয়।
তার প্রশ্ন, ‘‘২২ বছর ধরে সন্ত্রাস চলছে, এ কেমন নীতি?’’
আফ্রিদির দাবি, ইমরান খানের সরকারের সময় শান্তি ছিল, কারণ তার নীতি ঠিক ছিল। কিন্তু ক্ষমতা পরিবর্তনের অভিযানের পর সন্ত্রাসীদের আবার বসতি গড়তে দেওয়া হয়েছে, আর তাতেই অন্তহীন সন্ত্রাস শুরু হয়েছে। ২০২৩ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ইমরান খান তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের সদস্যদের পুনর্বাসনের সরকারি পরিকল্পনার পক্ষে সাফাই দিয





