বগুড়ার শেরপুরে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে অপহরণের শিকার হওয়া আঁখি মনি নামের এক স্কুলছাত্রীকে চার দিন পর উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ রোববার উপজেলার চকপোতা গ্রামে অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত রিয়াদ হোসেনের বাড়ি থেকে ১৬ বছর বয়সী ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়েরের পর আজ সন্ধ্যায় প্রধান আসামি রিয়াদকে (২০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শেরপুর মজিবর রহমান মজনু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী আঁখি মনিকে বিদ্যালয়ে যাতায়াতের পথে চকপোতা গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে রিয়াদ হোসেন দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। বিষয়টি আঁখির পরিবারের পক্ষ থেকে রিয়াদের পরিবারকে জানানো হলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে তুলে নেওয়ার হুমকি দেয়। গত মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে প্রতিদিনের মতো বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে বের হয়ে চকপোতা গ্রামের জামাদারের দোকানের সামনে পৌঁছালে আগে থেকে সেখানে অবস্থান করা রিয়াদ ও তার সহযোগীরা তাকে জোরপূর্বক একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়।
নির্ধারিত সময়ে বিদ্যালয়ে কিংবা বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কিন্তু তার কোনো সন্ধান না পেয়ে গত শনিবার রাতে তার মা বাদী হয়ে শেরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পরে অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। মামলা দায়েরের পরদিন পুলিশ অভিযান চালিয়ে রিয়াদ হোসেনের বাড়ি থেকে আঁখিকে উদ্ধার করে।
অপরদিকে গ্রেপ্তার রিয়াদের মামা হাফিজার রহমান দাবি করেছেন, "আমার বোনের ছেলের সঙ্গে ওই মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। আগেও একবার মেয়ে আমার বোনের বাসায় এসেছিলো। সে সময় স্থানীয়দের উপস্থিতিতে মেয়েটিকে তার পরিবারের কাছে দিয়ে দেওয়া হয়। একইভাবে গত মঙ্গলবার ওই মেয়ে নিজের ইচ্ছায় আমার ভাগিনার সঙ্গে তার বাসায় আসে। এখন মেয়ের পরিবার আমাদের নামে অপহরণের মিথ্যা মামলা করেছে।"
শেরপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন বলেন, "বাদীর লিখিত এজাহারের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়েছে। অভিযান চালিয়ে স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে। মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"





