দুবাইয়ে ইসরাইলি উড়োজাহাজগুলোর অবতরণের অনুমতি বাতিল করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এই সিদ্ধান্তের কারণে দুবাইয়ে আটকে পড়া নিজেদের নাগরিকদের ফিরিয়ে আনার জন্য নির্ধারিত বিশেষ ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে ইসরাইলের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা এল আল। তুরস্কের সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, শুক্রবারের বিশেষ উদ্ধারকারী ফ্লাইটগুলো পরিচালনার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তারা জানতে পারে যে, সংযুক্ত আরব আমিরাত ইসরাইলি বিমান সংস্থাগুলোর অবতরণের অনুমোদন প্রত্যাহার করে নিয়েছে। উদ্ভূত এই পরিস্থিতির কারণে শুক্রবারের নির্ধারিত ফ্লাইটগুলো পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি।
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল সেভেনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুবাইয়ে আটকে থাকা নাগরিকদের ফিরিয়ে আনতে ইসরাইলি বিমান সংস্থাগুলো যখন বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনার জোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক তখনই শেষ মুহূর্তে আমিরাত কর্তৃপক্ষ অবতরণের অনুমতি প্রত্যাহার করে নেয়। তবে কী কারণে হঠাৎ এই অনুমতি বাতিল করা হলো, সে বিষয়ে এল আল বা সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।
অবশ্য এল আল জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন পাওয়া গেলে দুবাই থেকে নাগরিকদের ফিরিয়ে আনতে যেকোনো সময় চার্টার ফ্লাইট চালাতে তারা প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া আগামী রোববার, সোমবার, বুধবার ও বৃহস্পতিবারের নিয়মিত ফ্লাইটগুলো এখন পর্যন্ত নির্ধারিত সূচিতেই রাখা হয়েছে। তবে এসব ফ্লাইটের সব আসন ইতিমধ্যে বুক হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে বিমান সংস্থাটি。
এই ঘটনার আগে, গত বুধবার দুবাই থেকে তেল আবিবগামী একটি ফ্লাইটে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির পর ফ্লাইদুবাই তাদের বিমান পরিষেবা সাময়িকভাবে স্থগিত করে। ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, ওই ফ্লাইটের সহকারী ওমানি পাইলট বিমানের মূল পাইলটকে ছুরিকাঘাত করে উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা চালিয়েছিলেন। পরে অবশ্য যাত্রী ও ক্রু সদস্যরা মিলে তাকে নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং বিমানটি সৌদি আরবে জরুরি অবতরণ করে।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ঐতিহাসিক স্বাভাবিকীকরণ চুক্তির আওতায় ইসরাইল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর থেকেই দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত বিমান যোগাযোগ চালু রয়েছে।





