তৃণমূল নেতাকর্মীদের একের পর এক নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে বিব্রত হয়ে দলের শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন বিএনপি’র চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চাঁদাবাজি ও দখলবাজির মতো বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক শাস্তির পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের কাছে পাঠানো হচ্ছে কড়া সতর্কবার্তা। অভিযোগের প্রমাণ পেলেই তাৎক্ষণিকভাবে কমিটি ভেঙে দেওয়া হচ্ছে।
সম্প্রতি দখল ও ভাঙচুরের ঘটনার দায়ে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি, উত্তর যুবদল এবং পশ্চিম শাখা ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এই তিন সংগঠনের মোট ১১ জন নেতাকর্মীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং বহিষ্কৃত এক যুবদল নেতাকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। দলের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, এই সাংগঠনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে অপকর্মে জড়িতদের সতর্ক থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
এরই ধারাবাহিকতায়, মিরপুরের মা ও শিশু স্বাস্থ্যকেন্দ্র রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বিএনপি’র সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নির্দেশ পাওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি।
গুরুত্বপূর্ণ তিনটি ইউনিটের কমিটি একসঙ্গে ভেঙে দেওয়া এবং সংসদ সদস্যের পদত্যাগের ঘটনাকে দলের শৃঙ্খলা ফেরানোর বড় উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন নেতারা। তবে বিএনপি’র কয়েকজন তৃণমূল ও শীর্ষ নেতা মনে করছেন, কেবল কমিটি বিলুপ্ত করেই এসব কর্মকাণ্ড পুরোপুরি থামানো যাবে না। কেন্দ্রের সাংগঠনিক কাঠামো দুর্বল হওয়ার কারণেই এমন ঘটনা ঘটছে উল্লেখ করে তারা সারা দেশে ওয়ার্ড পর্যায় থেকে শুরু করে সব কমিটি রাজপথের ত্যাগী ও যোগ্য নেতাদের দিয়ে পুনর্গঠনের দাবি জানিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপি’র এক সিনিয়র নেতা জানান, দল এখন দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগের রাজনীতি থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসতে চায় এবং ঢাকা মহানগরের তিন কমিটি ভেঙে দেওয়ার মাধ্যমে সেই বার্তাই স্পষ্ট করা হয়েছে।
এদিকে তদন্তের প্রয়োজনে আইন অনুযায়ী সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এ বিষয়ে বলেন, সরকার জনগণকে এই বার্তা দিতে চায় যে আইন সবার জন্য সমান। সরকারি দলের কারও বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা থাকলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে, কারণ সরকার দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দলের সহ-দপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেন জানান, কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি গঠন একটি নিয়মিত সাংগঠনিক প্রক্রিয়া এবং এর অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরকার ও দলের এই কঠোর অবস্থান নিয়ে বিএনপি’র সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, বার্তাটি অত্যন্ত স্পষ্ট—কোনো ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িত হওয়া যাবে না এবং সরকার বা দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করা চলবে না। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগের মাধ্যমে সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনে কাজ করছেন। সেখানে কেউ দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যথায় বিরোধীরা সুযোগ নেবে এবং ইতিমধ্যে তারা সেই সুযোগ নিয়েছে।





