খুলনার দাকোপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করার দীর্ঘ ১৯ বছর পার হলেও কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপকূলীয় ও অবহেলিত এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষ। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির অনুমোদিত ৪১টি চিকিৎসক পদের মধ্যে বর্তমানে ২২টিই শূন্য পড়ে আছে। এছাড়া মোট ২১৬টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ১২৫ জন, অর্থাৎ ৯১টি পদ ফাঁকা।
বিশেষ করে প্রসূতি ও অ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ, কার্ডিওলজিস্টসহ ১০টি জুনিয়র কনসালট্যান্টের ৬টি এবং সহকারী সার্জনের ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ পদ ফাঁকা থাকায় শল্যচিকিৎসা ও জটিল রোগী ব্যবস্থাপনা পুরোপুরি ব্যাহত হচ্ছে। জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত মেডিকেল অফিসার কুন্তল মণ্ডল জানান, প্রসূতি ও অ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ না থাকায় জটিল গর্ভাবস্থার রোগীদের অন্যত্র রিফার করা ছাড়া উপায় থাকে না।
হাসপাতালের কারিগরি জনবল সংকটের কারণে আধুনিক যন্ত্রপাতিগুলোও অকেজো হয়ে পড়ে আছে। পর্যাপ্ত রেডিওগ্রাফার ও সনোলজিস্ট না থাকায় কোটি টাকার এক্স-রে ও আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিনগুলো ধুলো জমছে, যার ফলে সাধারণ মানুষকে চড়া দামে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে। এছাড়া প্যাথলজি বিভাগটি মাত্র একজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট দিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে।
হাসপাতালে বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৩০০ থেকে ৩৫০ জন এবং জরুরি বিভাগে ৭০ থেকে ৮০ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। অনেক সময় ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৫০ শয্যার সীমার দ্বিগুণ অর্থাৎ ১০০ ছাড়িয়ে যায়। শয্যা না পেয়ে বহু রোগীকে বাধ্য হয়ে বারান্দা ও মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালের চত্বরে বর্জ্য ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকায় সার্বিক পরিবেশও অস্বাস্থ্যকর হয়ে পড়েছে।
এই সংকট স্বীকার করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুদীপ বালা বলেন, সীমিত জনবল নিয়েই আমরা সাধ্যমতো পরিষেবা দিচ্ছি। একাধিকবার জনবল চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হলেও কোনো সুরাহা হয়নি। তিনি আরও বলেন, দ্রুত পদগুলো পূরণ করা না গেলে দাকোপের মতো প্রত্যন্ত এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।





