ফ্রান্সে শিক্ষার্থী ও পুলিশের সংঘর্ষ: গ্রেপ্তার ২ হাজার

Published: October 2, 2026, 4:53 pm

ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দাঙ্গা পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শ্রেণিকক্ষের সংকট এবং শিক্ষা খাতে সরকারি বরাদ্দ নিয়ে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ ধীরে ধীরে সহিংস রূপ ধারণ করেছে, যা প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্ট্রাসবুর্গে কাঁদানে গ্যাসের ব্যবহার, মার্সেইয়ে পুলিশের ওপর আতশবাজি নিক্ষেপ এবং রেনে শহরে আবর্জনার ড্রামে আগুন দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। প্যারিসেও খণ্ড খণ্ড সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা “আমাদের গড়তে হবে ভবিষ্যৎ, সহ্য করতে নয়” লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে প্রতিবাদ জানায়।

বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানাঁ আরটিএল রেডিওকে জানিয়েছেন, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ২ হাজার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই কিশোর। তিনি মন্তব্য করেন যে, শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন এখন বহিরাগতদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে এবং যারা সম্পত্তির ক্ষতি করছে, তাদের অভিভাবকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত। পরিস্থিতির অবনতির কারণে শুক্রবার ফ্রান্সের প্রায় ১০ শতাংশ বা ৪০০টি হাইস্কুল বন্ধ রাখতে হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে বিএফএম টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা সন্তানদের রাস্তায় বিক্ষোভে যেতে নিরুৎসাহিত করেন, কারণ রাস্তায় শিশুরা বিপদে আছে।

শিক্ষার্থীরা তাদের ক্ষোভের কারণ হিসেবে ক্লাসে অতিরিক্ত ভিড়, নিয়মিত শিক্ষক সংকট এবং জরাজীর্ণ ভবনের কথা উল্লেখ করেছে। পাঁতাঁ এলাকার ১৫ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী জানায়, ক্লাসে ৩৫ জন শিক্ষার্থী থাকলেও বসার পর্যাপ্ত চেয়ার নেই এবং টিফিন বিরতিতে সবার খাবার পাওয়া অসম্ভব। রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা অনেক শিক্ষার্থী জানিয়েছে, সহিংসতার মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় তারা বিক্ষোভ থেকে দূরে থাকছে।

বিক্ষোভের মূলে রয়েছে ২০২৭ সালের প্রস্তাবিত খসড়া বাজেট, যেখানে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ মাত্র ১.৭ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে, যা মূল্যস্ফীতির হারের চেয়েও কম। শিক্ষকদের পেনশন বাদে এই খাতের বরাদ্দ ৬ হাজার ৫৫৩ কোটি ইউরো, যেখানে ঋণের সুদ পরিশোধেই ব্যয় হবে ৭ হাজার ৪৫০ কোটি ইউরো। শিক্ষার্থী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো পুলিশের কঠোর আচরণের অভিযোগ তুলেছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক্স হ্যান্ডেলে জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা দিতে হবে এবং লাঠি দিয়ে পেটানো চলবে না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশি সহিংসতার তিনটি তদন্ত শুরু হয়েছে। এদিকে, এই অস্থিরতা ফ্রান্সের সীমানা পেরিয়ে বেলজিয়ামের লিয়েজ শহরেও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে শুক্রবার হাইস্কুলগুলো বন্ধ ছিল।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin