দিল্লিতে বিক্ষোভ ও ইন্টারনেট বন্ধ: ৭ শতাধিক আটক

Published: October 2, 2026, 12:26 pm

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলা বিক্ষোভের জেরে দিল্লির যন্তর মন্তর ও এর আশপাশের এলাকায় ১২ ঘণ্টার জন্য ইন্টারনেট সেবা স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার জন্য এয়ারটেল, রিলায়েন্স জিও ও ভোডাফোন আইডিয়াসহ সংশ্লিষ্ট টেলিকম সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এই বিধিনিষেধ যন্তর মন্তরের চারপাশের ১ দশমিক ৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে কার্যকর ছিল।

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও অসংখ্য ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠন এই বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল। বিক্ষোভকারী সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে এআইএসএ, এসএফআই ও এনএসইউআই। তবে নির্বাচন কমিশন ও সিইসি জ্ঞানেশ কুমার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

বিক্ষোভের অনুমতি না থাকায় শুক্রবার সকাল থেকে দিল্লি পুলিশ যন্তর মন্তর ও সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান নেয় এবং সাত শতাধিক বিক্ষোভকারীকে আটক করে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে আম আদমি পার্টির (এএপি) নেতা এবং বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের কর্মীরা রয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিউ দিল্লি জেলায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৬৩ ধারা জারি করা হয় এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে দিল্লির বেশ কিছু মেট্রো স্টেশনও বন্ধ রাখা হয়।

উল্লেখ্য, গত তিন মাসের মধ্যে যন্তর মন্তর এলাকায় এটি দ্বিতীয়বার ইন্টারনেট বন্ধের ঘটনা। এর আগে জুলাই মাসে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভের সময়ও একই এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট সেবা পাঁচ দিন বন্ধ রাখা হয়েছিল। সেই সময় বিক্ষোভকারীরা ইন্টারনেট ছাড়াই যোগাযোগের জন্য ‘বিচ্যাট মেশ’ নামক ব্লুটুথভিত্তিক অ্যাপ ব্যবহার করেছিলেন। এছাড়া ২০১৯ সালে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে এবং ২০২১ সালে কৃষক আন্দোলনের সময়ও দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে ইন্টারনেট সেবা বন্ধের নজির রয়েছে।

পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকা থেকে ৭০০-এর বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy