মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম মহাসচিব হলেন নোমান মাহমুদ

Published: September 24, 2026, 6:03 am

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম মহাসচিব হিসেবে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল নোমান মাহমুদকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতির মাধ্যমে এই নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। রিয়াদে অবস্থিত এই জোটের সাধারণ সচিবালয়ের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করবেন।

১৯৮৭ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া নোমান মাহমুদ ২০২৩ সালে অবসরে যান। এই ত্রিপাক্ষিক জোটটি মুসলিম বিশ্বের তিনটি প্রভাবশালী সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তির সমন্বয়ে গঠিত। এতে মধ্যপ্রাচ্যের শীর্ষ অর্থনীতি সৌদি আরব, ন্যাটো সদস্য তুরস্ক এবং পারমাণবিক শক্তিধর দেশ পাকিস্তান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। দীর্ঘদিনের কৌশলগত দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যে এই নতুন জোট গঠন করা হয়েছে।

জোটের রূপরেখা অনুযায়ী, স্বাক্ষরকারী কোনো একটি দেশের ওপর সামরিক হামলা হলে তা জোটের সব সদস্যদেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে। পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের আদলে এই বিধান তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া সীমান্ত ও আকাশ প্রতিরক্ষার পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান, যৌথ সামরিক মহড়া, ড্রোন প্রযুক্তির বিনিময় এবং আধুনিক সমরাস্ত্র যৌথভাবে উৎপাদনের বিষয়েও এই চুক্তি কাজ করছে।

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক অস্থিরতা এবং ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি মোকাবিলায় পশ্চিমা শক্তির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার লক্ষ্যেই সৌদি আরব এই উদ্যোগ জোরদার করেছে। তবে অতীতে সৌদি আরবে হুথিদের হামলার সময় তুরস্ক ও পাকিস্তানকে কেবল নিন্দাই জানাতে দেখা গেছে, যা জোটের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। উল্লেখ্য, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ যৌথভাবে এই মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh