জাতিসংঘের একই মঞ্চে দাঁড়িয়ে মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই নেতার ভাষণ বিশ্বরাজনীতিতে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একদিন আগেই এই মঞ্চ থেকে ইরানকে ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার ঠিক এক দিন পর সেই একই স্থানে দাঁড়িয়ে সেই হুমকির কড়া জবাব দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ভাষণ দেওয়ার সময় ইরানের প্রেসিডেন্ট উপস্থিত দর্শকদের সামনে মার্কিন ও ইসরায়েলি অস্ত্রের হামলায় নিহত শিশুদের কিছু ছবি তুলে ধরেন। এই দৃশ্য প্রদর্শনের সময় সভাস্থলে থাকা একমাত্র মার্কিন কূটনীতিক প্রতিবাদস্বরূপ সভাকক্ষ ত্যাগ করেন।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তার বক্তব্যে ইরানের পূর্বের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, ইরানের ওপর হামলা চালানো হয়েছে, কিন্তু দেশটি আত্মসমর্পণ করেনি। যতক্ষণ না যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক অভিযান বন্ধ করছে, ততক্ষণ ইরান কোনোভাবেই আত্মসমর্পণ করবে না। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর এই যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে, তবে ইরান নিজেদের রক্ষায় লড়াই করতে ভয় পায় না।
ভাষণের সময় দর্শকসারিতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও তার প্রতিনিধিদলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এর এক দিন আগেই কাতারের মধ্যস্থতায় সংঘাতের অবসানের বিষয়ে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে তারা আলোচনা করেছিলেন। যদিও ট্রাম্প সেই আলোচনাকে ফলপ্রসূ বলে দাবি করেছিলেন, কিন্তু পেজেশকিয়ান ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, অতীতেও আলোচনার সময় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছে, যার ফলে ওয়াশিংটনের ওপর তেহরানের আস্থার সংকট রয়েছে।
ট্রাম্প দাবি করেছেন ইরান নিয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তার হাতেই, যার জবাবে পেজেশকিয়ান বলেন, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার ইরানেরও রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি আলোচনার পাশাপাশি প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তবে এতসব পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের পরও, এই যুদ্ধ ঠিক কীভাবে শেষ হবে—তা নিয়ে দুই নেতার কেউই কোনো স্পষ্ট বার্তা দিতে পারেননি।





